
খাগড়াছড়ির গুইমারায় সাবেক কৃষিবিদ জ্যোতি কিশোর বড়ুয়ার পাঁচ একর টিলা জমিতে গড়ে তোলা ফলদ বাগানের প্রায় ১৪০টি চারা গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাগানের বাঁশের বেড়া, সিমেন্টের পিলার ও প্রায় এক হাজার ফুট নেটও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে গুইমারা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ খামার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী জ্যোতি কিশোর বড়ুয়া জানান, তিনি মাতিরাঙ্গা পৌরসভার মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ২০০৭ সালে রতন কুমার ত্রিপুরার কাছ থেকে গুইমারা মৌজার ১৯৭ নম্বর মৌজার ৮৭৮ নম্বর দাগ ও ২২/ক নম্বর হোল্ডিংয়ের আওতাধীন পাঁচ একর টিলা জমি ক্রয় করে ভোগদখলে রয়েছেন।
তার অভিযোগ, প্রতিবেশী এবং গুইমারা সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক থোয়াইচিং মারমা, তার দুই ভাই মংশে মারমা ও অংচিহ্লা মারমা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন।
এ বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে তিনি স্থানীয় হেডম্যান কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। পরে ৫ অক্টোবর উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হেডম্যান বাদীর পক্ষে রায় দেন। তবে বিবাদীপক্ষ সেই রায় প্রত্যাখ্যান করলে জ্যোতি কিশোর বড়ুয়া ১৪ অক্টোবর ২০২৪ সালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা করেন। পরে ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।
আদালতের রায় পাওয়ার পর তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ একর পাহাড়ি জমিতে বাঁশ ও নেটের বেড়া দিয়ে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে তোলেন। কিন্তু বাগান করার কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা প্রায় ১৪০টি আমগাছের চারা কেটে ও উপড়ে ফেলে। পাশাপাশি বাঁশের বেড়া, সিমেন্টের পিলার এবং প্রায় এক হাজার ফুট নেটও নষ্ট করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে শ্রমিকরা বাগানে কাজ করতে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে জ্যোতি কিশোর বড়ুয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় মেম্বার, কারবারি, হেডম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন।
তিনি এ ঘটনার জন্য থোয়াইচিং মারমা, মংশে মারমা ও অংচিহ্লা মারমাকে দায়ী করেছেন।
ভুক্তভোগী জানান, স্থানীয় সমাজপতিরা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিন দিনের সময় চেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে তিনি আদালতে নতুন মামলা করবেন।
তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কারবারি অংজয় মারমা বলেন, তার জানামতে জমিটির প্রকৃত মালিক জ্যোতি কিশোর বড়ুয়া। যেহেতু জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তাই প্রতিপক্ষের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়ার্দী বলেন, বিষয়টি তিনি পরোক্ষভাবে শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।