
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানের ‘ইয়াবা সেবনের’ একটি ভিডিও আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে ইয়াবা সেবন করিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গোপীনাথপুর হাট অফিসের একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতিতে আগুনের তাপে একটি যন্ত্র ব্যবহার করে পাইপের মাধ্যমে কোনো পদার্থ গ্রহণ করছেন এক ব্যক্তি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান এবং তিনি ইয়াবা সেবন করছিলেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে উপস্থিত অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সভাপতির ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা দলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হবে। একজন দায়িত্বশীল নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই বলে দাবি করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হাট অফিসে নিয়ে যায় এবং ইয়াবা সেবন করায়। তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি।’ এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কিনা, সেটিও যাচাই করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও তিনি জানান।