.jpeg)
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারে নবনির্মিত একটি আধুনিক মার্কেট ভবন উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কেট ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’-এর আওতায়, এলজিইডি-এর তত্ত্বাবধানে ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মার্কেট ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আজকে আমরা গজারিয়াতে এসেছি স্থানীয় সংসদ সদস্যের আমন্ত্রণে। একটি মার্কেট ভবন ও একটি রাস্তা উদ্বোধন শেষে এখন রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলদী নদীর পাড়ে আসলাম। ইনশাল্লাহ আমাদের সরকার এই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মন্ত্রী ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ জায়গাটি পরিদর্শন করে গেছেন।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)-এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহবুব আলম। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, এলজিইডির গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন এবং গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এলজিইডি-এর গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত এই বহুতল ভবনের নিচতলায় থাকবে আধুনিক কাঁচাবাজার এবং দ্বিতীয় তলায় থাকবে মুদি পণ্যের দোকান। উন্নত বিশ্বের আদলে তৈরি এই মার্কেটে ক্রেতারা একই ছাদের নিচে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের মুদি পণ্য কিনতে পারবেন। ভবেরচর বাজারের এই আধুনিক মার্কেটে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নারী ব্যবসায়ীদের জন্য সুনির্দিষ্ট দোকানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় অংশীজনদের মতে, এই মার্কেটটি চালু হওয়ার ফলে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি তাদের উৎপাদিত পণ্য এখানে এনে বিক্রি করতে পারবেন। এতে যেমন কৃষকরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন তেমনই সাধারণ ক্রেতারাও সাশ্রয়ী মূল্যে টাটকা কৃষিপণ্য কেনার সুবিধা পাবেন। এই মার্কেটটি অত্র অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।