
সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে রীতিমতো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খাবারের পার্সেল পেতে দেরি হওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে দুটি হোটেলে হামলা, ভাঙচুর এবং একাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মতিহার থানার বিনোদপুর বাজার ও মন্ডলের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে মতিহার থানার কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিন রয়েছেন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিনোদপুর বাজারের ‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যান। খাবার শেষে তিনি কিছু খাবার পার্সেল নেওয়ার জন্য অর্ডার দেন। রেস্তোরাঁর কর্মীরা তাকে জানান, পার্সেল প্রস্তুত করতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগবে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রমজান আলী পার্সেল না নিয়েই সেখান থেকে চলে যান।
এর কিছু সময় পর কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র ও রাম দা নিয়ে রেস্তোরাঁটিতে হামলা চালায়। তারা ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি হোটেলটিকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় মন্ডলের মোড়ে অবস্থিত ‘বঙ্গভোজ’ নামের আরেকটি হোটেলেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করেও দুটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই হোটেলের কয়েকজন কর্মচারীও আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাংলা টিফিনের মালিক শাকিল বলেন, এত ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা কেন ঘটানো হলো, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি জানান, হামলাকারীরা পুলিশকেও লক্ষ্য করে হাতবোমা ছুড়েছে, যার ফলে পুলিশ সদস্য ও হোটেলকর্মীরা আহত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রমজান আলী বলেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে সেখানে রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং পরে একটি পার্সেলের অর্ডার দেন। তার দাবি, হোটেলের কর্মচারীরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করায় তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেখান থেকে চলে যান। পরবর্তীতে কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক এবং এ বিষয়ে তিনি হোটেল মালিকের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।