
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের পাশেই খোলা অবস্থায় স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত ড্রেসিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা বর্জ্য। জনসমাগমপূর্ণ সড়কের পাশে এভাবে সংক্রমণঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ফেলে রাখায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশগেট-সংলগ্ন মূল দেয়ালের পাশে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ধারে খোলা অবস্থায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে চিকিৎসা বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে ফলমূল ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য, রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত ড্রেসিং সামগ্রী, চিকিৎসা উপকরণের মোড়ক, ওষুধের প্যাকেট, প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য। খোলা অবস্থায় এসব বর্জ্য পড়ে থাকায় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
প্রতিদিন এ পথ দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু, তাদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের চলাচল হয়। হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার বলেন, "এগুলো সরকারি হাসপাতালের বর্জ্য নয়। হাসপাতালের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।" হাসপাতালের দায়িত্বরত অপর এক চিকিৎসকও একই ধরনের দাবি করেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা বর্জ্যের মধ্যে থাকা রক্তমাখা গজ, ব্যান্ডেজ, ড্রেসিং সামগ্রী ও অন্যান্য সংক্রমণবাহী উপকরণ খোলা স্থানে বা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ফেলে রাখা হলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পথচারী, রোগী ও তাদের স্বজন সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। পাশাপাশি মাছি, মশা, কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব দূষিত উপাদান আশপাশের পরিবেশ ও জলাশয়ে মিশে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের প্রধান ফটকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখা শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর হুমকি। এমন ঘটনা চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মেডিকেল ওয়েস্ট (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রসেসিং) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশিয়ে বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা যায় না। সংক্রমণজনিত, ধারালো, প্লাস্টিক ও সাধারণ বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্তকরণ, পরিবহন ও চূড়ান্ত অপসারণ করতে হয়। খোলা স্থানে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখা বিধিমালার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় এভাবে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলে রাখা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।