
ইরান জানিয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থানরত শীর্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা কোনো বৈঠকে বসবে না। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর তেহরানের এই অবস্থান দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মতো জটিল ও সংবেদনশীল ইস্যুতে আলোচনায় যাওয়ার আগে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্তগুলো চূড়ান্ত করা জরুরি। এসব বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের নতুন কোনো আলোচনা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ওই চুক্তিতে আর্থিক প্রণোদনার বিনিময়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনারও প্রস্তাব ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এটিকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করলেও ইরান ও কাতার জানিয়েছে, তারা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন না; বরং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল-থানি মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাকায়ি বলেছেন, “সামনের দিনগুলোয় আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে কোনো পর্যায়ে কোনো বৈঠক করার কর্মসূচি নেই।”
অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সীমিত পরিসরে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে পারে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি অচলাবস্থায় পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপের পথে ফিরবে কি না, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাবছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে ইরানবিষয়ক সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছু সময় দেওয়ার পক্ষে রয়েছে।