
তেহরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অতি সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ধারণ করে ইরান-সংশ্লিষ্ট এক এজেন্টের কাছে পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি পুলিশের বরাতে জানা গেছে, আটককৃত ওই মার্কিন নাগরিকের বয়স মাত্র ২০ বছর। তিনি তেহরানের অনুগত এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। এভাবে স্পর্শকাতর গোপন তথ্য ও ছবি পাচারের বিনিময়ে প্রতিটি কাজের জন্য কয়েক ডলার থেকে শুরু করে শত শত ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিতেন তিনি।
গত ৯ জুন জেরুজালেম জেলা পুলিশ অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে হেফাজতে নেয়। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইতিমধ্যেই আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কৌঁসুলির ঘোষণা (প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন) জমা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে এই স্পর্শকাতর গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার আরেকটি বড় খবরের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট গ্রাম থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সীমা ঠিক করেনি তেল আবিব। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘কান’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য না হওয়া পর্যন্ত এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকবে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, তাড়াহুড়ো না করে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁত ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হবে। হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেবাননের সেনাবাহিনী যেন দ্রুত কার্যকর ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল ইসরায়েল সেখান থেকে নিজেদের সীমান্তরক্ষী সরানোর কাজ শুরু করবে।
সূত্র: আল জাজিরা