
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশের (৩৩) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ধলাই নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধলাই নদীর ব্যাংকার এলাকার ৩ নম্বর পিলারের কাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জগৎ জ্যোতি দাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে সাদাপাথর এলাকায় বেড়াতে যান সুব্রত সাহা বিকাশ। পরে জিরোপয়েন্ট এলাকায় ধলাই নদীর উৎসমুখে গোসল করতে নামলে প্রবল স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালালেও সেদিন রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় নৌকার মাঝি রুবেল মিয়া মাছ ধরার সময় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি তীরে তুলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহটি নিখোঁজ চিকিৎসক সুব্রত সাহা বিকাশের বলে শনাক্ত করে।
রুবেল মিয়া জানান, মাছ ধরার সময় প্রথমে তিনি পানির ওপর মানুষের চুলের মতো কিছু ভাসতে দেখেন। পরে কাছে গিয়ে সেটি একটি মরদেহ বলে বুঝতে পারেন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেটি উদ্ধার করেন।
নিহত সুব্রত সাহা বিকাশ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি মিহির লাল সাহার ছেলে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বর্ষা মৌসুমে সাদাপাথর এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ধলাই নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।