
২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও মিসর। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১২টায় আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে শুরু হবে শেষ ষোলো নিশ্চিতের এই লড়াই। ম্যাচের বিজয়ী দল পরবর্তী রাউন্ডে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে।
নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দুই দলই। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল তুরস্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ব্যবধানে হেরে যায় তারা। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ ষোলোয় ওঠে সকারুরা।
অন্যদিকে, ‘জি’ গ্রুপে অপরাজিত থেকেই নকআউট নিশ্চিত করেছে মিসর। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পাঁচ পয়েন্ট অর্জন করলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবেই পরের রাউন্ডে উঠতে হয়েছে তাদের।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। এর আগে মাত্র একবারই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দেখা হয়েছিল তাদের। ২০১০ সালের সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল মিসর।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার অভিজ্ঞতায় অবশ্য এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৬ ও ২০২২ সালের আসরেও শেষ ষোলোতে খেলেছিল দলটি। গত বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা থেমেছিল আর্জেন্টিনার কাছে হেরে। অন্যদিকে, ১৯৩৪ সালের পর এই প্রথমবারের মতো আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে মিসর। ফলে তাদের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বেশি।
অস্ট্রেলিয়া শিবিরে রয়েছে কিছু দুশ্চিন্তা। কুঁচকির চোটের কারণে জ্যাকব ইতালিয়ানো এবং হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ম্যাথিউ লেকি এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামা একাদশের ওপরই আস্থা রাখতে পারেন কোচ টনি পপোভিক। রক্ষণে ভরসা হবেন তরুণ লুকাস হ্যারিংটন, আর আক্রমণে নজর থাকবে তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডার দিকে।
মিসরের ইনজুরি সমস্যাও কম নয়। দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহর খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। এছাড়া হামদি ফাথি, হোসাম আবদেলমাগুইদ, মোহাম্মদ আবদেলমোনেম এবং আহমেদ এল ফুতুহর অবস্থাও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মহানাদ লাশিনের নিষেধাজ্ঞা।
সবকিছু মিলিয়ে দুই দলের মধ্যকার লড়াইটি হতে যাচ্ছে সমানে সমান। অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের বিপরীতে মিসরের ভরসা তাদের সংগঠিত রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণ। ফলে শেষ ষোলোর টিকিট পেতে দুই দলকেই নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে হবে।