
নিজের দাপ্তরিক অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপনের পরিবর্তে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে খাল-নদী খনন ও নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন। এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
ইউএনও মো. আল-আমীন বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আপনাদের মাধ্যমে সরকারের উচ্চ মহল বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের নিবেদন, উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে আমার আবেদন—এখানে যে পাহাড়ি নদীগুলো রয়েছে, সেগুলোর নাব্যতা বাড়াতে নদী খনন প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় নদীতীরবর্তী বাঁধ নির্মাণ জরুরি। এসব বাঁধ নির্মাণ করা হলে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা, বাজার-ঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষিত থাকবে এবং বন্যার শঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি নদীতীর সংরক্ষণ, শহর ও বাজার রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
তবে একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন কিংবা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ ও প্রস্তাব পাঠানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে এ দাবি জানানো নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সরকারদলীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। ইউএনও চাইলে স্থানীয় সমস্যাগুলো সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ ধরনের দাবি জানানো অযৌক্তিক।’
এ বিষয়ে জানতে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাতীয় সংসদে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।