
কুড়িগ্রামের উলিপুরে রেলপথ সংস্কার প্রকল্পে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পার্বতীপুর-রমনা কমিউটার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিপাকে পড়েন শত শত যাত্রী।
সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা বিশ্বাস কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার রুবেল হোসেন জানান, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উলিপুর পূর্ব বাজার এলাকার বধ্যভূমির সামনে কাজ চলাকালে স্থানীয় এনামুল হক (৫২), রুবেল মিয়া (৩৬), মশিউর (৩৯) ও আরও ১০-১২ জন সেখানে এসে কাজে বাধা দেন এবং চাঁদা দাবি করেন।
তার দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আরাফাত (১৯) ও মেহেদী হাসানকে (২৮) মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্য শ্রমিকরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রুবেল হোসেন আরও বলেন, স্থানীয় ওই ব্যক্তিরা এর আগেও কয়েক দফা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আহত শ্রমিক আরাফাত ও মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা রেল লাইনের সংস্কার কাজ করার সময় ১০-১২ জন স্থানীয় যুবক এসে আমাদের কাছে চাঁদাদাবি করেন। আমরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে মারধর করে এবং মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।’
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। যাত্রী মমিনুল ইসলাম, কাশেম মিয়া ও আব্দুল জলিলসহ অনেকেই জানান, কুড়িগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উলিপুর রেলস্টেশনে এসে তারা ট্রেন বন্ধ থাকার খবর পান। পরে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে শ্রমিকরা উত্ত্যক্ত করে আসছিল। আমি এর প্রতিবাদ করায় তারা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাদাবির অভিযোগ করছে।’ তবে তার বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উলিপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির বিরোধের কারণে সংস্কারকাজ ব্যাহত হয়েছে। এ কারণেই বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম-রমনা রুটে পার্বতীপুর-রমনা কমিউটার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম জানান, আহত দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। তবে আইনগত তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা রেলওয়ে থানা পুলিশ নেবে।
লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে উলিপুর রেলস্টেশন থেকে চিলমারীর রমনা স্টেশন পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় রেললাইনের দুই পাশে মাটি ভরাট, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ৯টি রেলসেতু সংস্কার, পাথর ফেলে কংক্রিটের স্লিপার স্থাপন এবং নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।