
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী কেএম লতিফ ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণীর ইতিহাস পরীক্ষার শেখ মুজিব সংশ্লিষ্ট একটি সৃজনশীল প্রশ্নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রাক-নির্বাচনী (প্রি-টেস্ট) পরীক্ষার এই প্রশ্নপত্রটির ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
কী ছিল সেই ভাইরাল প্রশ্নপত্রে?
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ৭০ নম্বরের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বিষয়ের ওই পরীক্ষায় দুটি নির্দিষ্ট সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে আপত্তির ঝড় ওঠে। প্রশ্ন দুটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের উপাধি, ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, মুজিবনগর সরকারের গঠন প্রক্রিয়া এবং যুক্তফ্রন্ট গঠনের পেছনের কারণসমূহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলোকে পরীক্ষার প্রশ্নে রাখা নিয়েই নেটিজেনদের মধ্যে নানা তর্ক-বিতর্ক চলছে।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচেতন অভিভাবক তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন:
“বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল।”
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা অফিসের বক্তব্য
প্রশ্নপত্রটি কীভাবে এবং কারা তৈরি করেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে খোদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভেতরেই। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খাসমহল লতিফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন:
“প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন আমরা নিজেরা প্রণয়ন করি না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়। প্রশ্নগুলো সিলগালা অবস্থায় থাকে। পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষার দিনই তা খোলে। আগে থেকে প্রশ্ন দেখার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বাইরে থেকে প্রশ্নপত্র ধার করার এই রেওয়াজকে নিয়মবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম পুরো প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও পরীক্ষা কমিটির গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন:
“স্কুলের প্রশ্ন বাইরে থেকে করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের কাছ থেকেই প্রশ্ন নেওয়ার কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত ছিল। প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কমিটির প্রশ্নটি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল।”