
সম্পতি টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় খাগড়াছড়ির কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবজি ক্ষেত পঁচে গেছে। বিশেষত আমনের বীজ তলা আউশের ক্ষেত বিনষ্ট হওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজারো কৃষক।
অনেকেই এখন নতুন করে বীজতলা তৈরী করে নতুন করে বীজ বুনেছে আবার কেউ কেউ আউশের ক্ষেতে উচ্চ দামে ধানের চারা কিনে রোপন করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আমন চাষে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,দীঘিনালার মেরুং এলাকায় হেক্টরের পর হেক্টর আউশের চারা গাছ পঁচে গেছে। আমনের চারা প্লাবনে ভাসিয়ে নিছে। স্থানীয় কৃষক শাহ জান জানান,তার এক খন্ড জমিতে আউশ ধান রোপন করেছিল। অতিবৃষ্টিতে প্লাবন ও জলাবদ্ধততার কারণে বেশি ভাগ ধানের চারা গাছ পঁচে গেছে। পাশের এলাকা ধেকে চওড়া দামে ধানের চারা কিনে পুনরায় রোপন করছে। তাছাড়াও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে গেছে আমনের সদ্য বুনা বীজতলা। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হবে । সরকারী ভাবে সহায়তা পেলে কিছুটা হলেও উপকৃত হতেন তিনি
পানছড়ি সদর ইউনিয়নের কৃষক মো: হোসেন জানান,৪২হাজার টাকা খরচ করে ৪০ শতক জমিতে শশা ,তিতি করলা চাষ করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে তা সম্পুর্ন পচে গেছে। আর চমি চাষ দেয়া হয়েছে। নতুন করে সবজি লাগানো হবে। সরকারী ভাবে সহয়তা পেলে উকৃত হওবন বলে জানান তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের সিংহপাড়ার কৃষক হায়দার আলী জানান, "ধবুকভরা আমনের বীজতলা তৈরি করছিলাম বীজ বুনে ছিলেন। কিন্তু চোখের সামনে প্লাবনে গেসে গেছে বীজতলা। অবশিষ্ট ছিল সব ডুবে পচে কাদা হয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজ বুনা হয়েছে ।
এতে এক দিকে খরচ বেড়েছে,অন্য দিকে সময়ে পিছিয়ে পড়েছে।
সরকারী ভাবে সহায়তা পেলে উপকৃত হতেন বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলমান বন্যায় জেলায় আউশ ধানের ২৫২০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ২৩৮ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।
এর মধ্যে ২৮ হেক্টর জমি আংশিক এবং ৯৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন সবজির ৪১৫০হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ১৪৩ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমন মৌসুমে উপজেলার ৮১০হেক্টর বীজতলার মধ্যে ২০২ হেক্টর বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ হেক্টর বীজতলা মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া জেলার ৬৫০ হেক্টর ফলবাগানের মধ্যে ৪০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান বন্যায় জেলায় অন্তত ৭৩৪৪ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। মোট ১১ কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৮০ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খাগড়াছড়ি কৃষি উপ পরিচালক নাছির উদ্দিন জানান "টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আমনের বীজতলা ও ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মাঠকর্মীরা এরই মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকদের দ্রুত নতুন করে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতি মধ্যে
ক্ষতিগ্রস্তেদের পূর্নবাসন কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং জেলার বিভিন্ন জায়গায় বীজ বিতরণ চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সবজির বীজ ও সার বিতরণ শুরু হবে বলে জানান তিনি।