
মাত্র আড়াই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), ঢাকার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে।
চলতি বছরের ৭ মে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. ছুফি উল্লাহ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী এবং অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে অভিযান শুরু করেন।
গত দুই মাসে পাবনা জেলায় এক হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিলেন তিনি। এতে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করছিলেন।
তবে অল্প সময়ের মধ্যে তার বদলির কারণ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, ভালো কাজের ধারাবাহিকতার মধ্যেই কেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। সচেতন মহলের মতে, তার মতো একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাকে এত দ্রুত বদলি করা উচিত হয়নি।
তবে বদলির কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাবনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিভিন্ন সময়ে পাবনা শহরসহ কয়েকটি এলাকায় শেখ হাসিনার পক্ষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে জেলাজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়।
এ ছাড়া গত ১৬ জুলাই রাতে পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন আহত হন। পরে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এদিকে জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে পাবনায় এসে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে দুই শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান পাবনাতেই অবস্থান করছেন, কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তাকে বিএনপি আশ্রয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এসব ঘটনার পর জেলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব বিষয়ও দ্রুত বদলির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে মো. ছুফি উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বদলির আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে কেন তাকে বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।