
সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা। কয়েক ঘণ্টার এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াপাড়া-রাজেন্দ্রপুর এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে সকাল ৯টা থেকে কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। বিক্ষোভ চলাকালে তারা কয়েক দফায় ফ্যাক্টরির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপে কারখানার কয়েকটি কাচও ভাঙচুর করা হয়। তবে পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে তারা কারখানায় ঢুকতে পারেননি। পরে শ্রমিকরা মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলার পর দুপুর আড়াইটার দিকে ইউএনওর আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের দাবি, ২০২৪ সালে একই সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা কাজে ফিরলেও অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তাদের ভাষ্য, এ কারণেই গত ২৭ জুলাই (সোমবার) থেকে তারা কাজ বন্ধ রেখে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করাসহ সাত দফা দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন।
এ বিষয়ে জেএমআই সিরিঞ্জ ফ্যাক্টরির মালিক গোলাম মোস্তফা বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর শ্রমিকদের অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু গত সোমবার থেকে তারা আবার কর্মসূচি শুরু করেছে। তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর প্রতিনিধিরা সভা ত্যাগ করে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শ্রমিকদের একটি ছোট অংশ পুনরায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেতন বৃদ্ধির দাবি পূরণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজনে তিনি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।