
তীব্র দাবদাহে পুড়ছে কুমিল্লা। এর মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি কুমিল্লার জনজীবনকে করে তুলেছে বিপর্যস্ত। জেলাজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে পিক আওয়ারে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।
বর্তমানে পিক আওয়ারে কুমিল্লা জেলার বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১,৬০০ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১,৩৫০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। অর্থাৎ, জেলাজুড়ে পিক আওয়ারে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় এই ঘাটতি পূরণে কর্তৃপক্ষ জেলাজুড়ে শিডিউল অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটালেও, তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, দিনের বেশিরভাগ সময় কারেন্ট না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভের সাথে বলেন, “মনে করেন, প্রায় আমাদের এই সকালে সকালবেলায় থাকে, আবার বিকালের দিকে দুপুরের দিকে কারেন্ট থাকে না। প্রায় সময়ই থাকে না। এক-দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা প্রায় থাকে না, সারাদিন। আর রাত্রে বেশিরভাগ থাকে না। কারেন্ট না থাকায় আমাদের সমস্যা অনেক বেশি।”
বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার এই লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ হয়ে অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মনে করেন দিনে চার-পাঁচবার করে কারেন্ট যায়। একবার গেলে এক-দুই ঘণ্টা কারেন্ট আমরা পাই না। খুব কষ্ট হয়। কারেন্টে খুব সমস্যা করতেছে ভাই। গেলে দুই ঘণ্টা, আড়াই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা কারেন্ট পাই না।”
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। অনেককেই বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে খোলা আকাশের নিচে সময় কাটাতে হচ্ছে। এক মা তার সন্তানকে নিয়ে বাইরে অপেক্ষমান অবস্থায় বলেন, “বাচ্চারা অতিষ্ঠ হইয়া রইছে গরমে। কারেন্ট না থাকলে কিচ্ছু করতে পারি না। বাচ্চা লয়ে অতিষ্ঠ হইয়া বাইরে ঘুরতাছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তীব্র দাবদাহে জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং কুমিল্লার জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।