
প্রায় তিন মাস ১৯ দিন কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিনে ভোলা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সেলিম খন্দকার। ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
পরিবারের দাবি, একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে পুলিশ সেলিম খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী এলাকার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা মো. লোকমান তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন।
সেলিম গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছেলে শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ভোলা-৪ আসনের এমপি প্রার্থী শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এসব প্রচার চালিয়েছে।
শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর আরও দাবি, সেলিমকে থানায় আটকের পর বাদীপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছিল। মামলার শুরু থেকেই বিভিন্ন অসঙ্গতি তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত নথি, চিকিৎসা নথি, মেডিকেল রিপোর্ট ও সোয়াব পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনার সময় ও তারিখের সঙ্গেও বিভিন্ন তথ্যের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে।
পরিবারের কাছে থাকা তথ্যের বরাত দিয়ে শাহাদাত বলেন, ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট মেয়েটি মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিল এবং একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল। এ সংক্রান্ত তথ্য নথিপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন করে তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহাদাত। স্থানীয় একাধিক মুরুব্বিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।
পরে মামলার ডিএনএ রিপোর্টসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি হাতে পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে সেলিম খন্দকারের জামিনের আবেদন করা হয়। ৯ আগস্ট ২০২৬ উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন। জামিন শুনানির সময় আদালত মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু বলেন, "মিথ্যা ও ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে একজন মানুষকে প্রায় ৩ মাস ১৯ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। এই সময়টিতে বাবা, আমাদের পরিবার ও স্বজনরা মানসিক, সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে অসংখ্য কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি।"
তিনি বলেন, মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী। মামলা পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়ার পর সব নথি ও প্রমাণ উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী ও সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু।