
দীর্ঘ ১০ বছর ৭ মাস পর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার পরই দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
গত ১৬ আগস্ট পাবনা জেলা বিএনপি উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন দুটি কমিটি ঘোষণা করে। এরপর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ কমিটির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেছেন।
সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির কমিটিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক এবং শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। পৌর বিএনপির কমিটিতে মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক এবং ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তবে আপাতত দুই কমিটিতেই শুধু আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নতুন কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, গোপনে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদেরও কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া নতুন কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নবগঠিত কমিটির নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকার দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা ঝাড়ু মিছিল বের করেন। এ সময় বক্তারা ত্যাগী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
অন্যদিকে, নবগঠিত কমিটির সমর্থকেরা কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার দাশুড়িয়ায় আনন্দ মিছিল করেছেন।
উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, দলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা আন্দোলন করছেন, তারা মূলত দল থেকে বহিষ্কৃত এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যারা একাধিকবার বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদের কমিটিকে অবৈধ বলার কোনো অধিকার নেই। কেন্দ্রের পছন্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যদের নিয়ে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি। সে সময় শামসুদ্দিন মালিথাকে সভাপতি ও আলাউদ্দিন বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা বিএনপির ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা সংকটের কারণে নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ ১০ বছর ৭ মাস পর গত ১৬ আগস্ট উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর দলটির দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যাওয়ায় ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।