
জামালপুর সদরের রশিদপুর এলাকায় এক নারীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের অপরাধে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী, কয়ড়ারপাড়া এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক এবং মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী রশিদপুরের ভাটিপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি ছোট এক সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন।
একা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছাত্তার মাদকাসক্তও ছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। দরজা খোলার পর আসামিরা জোর করে তাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কাছাকাছি একটি স্থানে যান। সেখানে ছাত্তার আলী তাকে ধর্ষণ করেন এবং অন্যরা পাহারা দেন।
এ সময় বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন আসামিরা। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পরদিন ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি জানান। তাদের পরামর্শে ২২ অক্টোবর তিনি জামালপুর থানায় ছাত্তার আলী, আব্দুল মালেক ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলা করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের এই দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।