
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। জেলায় শিল্প-কারখানা না থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত।
তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে শিগগিরই বিনিয়োগকারী আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা ও মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এবং উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।
মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।
মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংঘাত, সংঘর্ষ কিংবা প্রতিশোধ নয়—ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই নিজেদের রাজনীতি ও দলের মতবাদ প্রচার করবেন, তবে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের ওপর অতীতে হওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সমঝতার রাজনীতি’ বা ‘পলিটিক্স অব রিকনসিলিয়েশন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জানান।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: বাসস