
জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোকে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, লং মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ করে দিলে তা ভালো ফল বয়ে আনবে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে আবু সাঈদের মেমোরি স্ট্রিট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বিরোধী দলগুলোকে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট লং মার্চের ডাক দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগ এটিকে কেন্দ্র করে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান থাকবে, আপনারা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। শেখ হাসিনা এবং তাঁর তৈরি ফ্যাসিবাদ আমাদের সবার শত্রু।’
জামায়াত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিকভাবে ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্তের সুযোগ নিতে আওয়ামী লীগ পারে। তবে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে মাঠে নামছে—এমন কথা তিনি বলছেন না বলেও উল্লেখ করেন।
সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চের মতো কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, সরকারের বয়স এখন সাত মাস। তাঁর দাবি, গত ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এ অবস্থায় লং মার্চের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন করলে আওয়ামী লীগ আবার মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারে।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন—এতে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের লং মার্চ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতসহ ১১ দলকে তিনি জনবান্ধব কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।
চট্টগ্রামের লং মার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ১১ দলীয় জোটের এক নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ওই নেতা আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রাডো গাড়িতে করে লং মার্চে অংশ নিয়েছেন। তবে ওই বক্তব্যের স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
রাশেদ খাঁন বলেন, রংপুরের লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। সরকারি হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের সঙ্গে এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।