
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাহ আলমগীর (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর মারা যান। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার রানীচাপুর গ্রামের নূরুল হকের ছেলে।
কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, পরপর দুই দিনের সংঘর্ষ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীচাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সন্ধ্যায় রানীচাপুর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষ আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। এ সময় শুরু হওয়া সংঘর্ষ থেমে থেমে সারা দিন ধরে চলতে থাকে। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। প্রথমে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে শাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়।
দুই পক্ষের নেতৃত্বে বিএনপি ও শ্রমিক দল নেতার অনুসারীরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের একটিতে ছিলেন উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমানের লোকজন।
অন্য পক্ষের সঙ্গে ছিলেন একই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীরা।
তবে সংঘর্ষের পেছনে স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধই প্রধান কারণ বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন জানান, দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি মামলা হয়েছে। সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।’
রানীচাপুরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
সংঘর্ষের পর রানীচাপুর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. নাসিরুদ্দিন।
এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।