
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাহাজাদী বেগম নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নিহতের বাবা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে থানায় অভিযোগ করেছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। এর আগে শনিবার রাতে মেয়েকে হত্যার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শাহাজাদীর বাবা শাহিন মিয়া।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার মেহেরাজ মিয়ার সঙ্গে শাহাজাদীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। সংসার টিকিয়ে রাখতে শাহাজাদী এসব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন।
এদিকে, শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শাহাজাদী তার বাবাকে ফোন করে কান্নারত অবস্থায় জানান, তিনি বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে যেতে দিচ্ছেন না। এরপর ফোন কেটে দেন তিনি।
পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শাহাজাদীর স্বামী মেহেরাজ ফোন করে শাহিন মিয়াকে জানান, শাহাজাদী কথা বলছেন না ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে শাহিন মিয়া দেখেন, শাহাজাদীকে চাদরে মোড়ানো অবস্থায় জরুরি বিভাগের মেঝেতে রাখা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহিন মিয়ার অভিযোগ, মেয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে তার সন্দেহজনক মনে হয়েছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরস্পর যোগসাজশে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নিহতের বাবা।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।