
ভোলার চরফ্যাশনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, মাদক ও অপরাধ দমন এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এমাদুল হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাকলুকুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবু তাহের, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু এবং চরফ্যাশন উপজেলার চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া, সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন টিপু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসাইন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সিকদার, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আশ্রাফুর রহমান দিপু ফরাজী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব কামরুজ্জামান শাহীন, ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাচ্চু, চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল গোলদার এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমন, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে ধর্মীয় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদ্যাপন করা যায়।
তারা আরও বলেন, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার জন্যও গুরুত্ব দেওয়া হয়।