
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের আটটি লাগেজ হারিয়ে গেছে। এসব লাগেজে ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট, দামি আইফোন, মার্কিন ডলার, নগদ টাকা, পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রী ছিল। এ ঘটনায় লাগেজ উদ্ধারে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ক্রিকেটার এসএম মেহেরাব হোসেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন দলের খেলোয়াড়েরা। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যানে ৫৪টি লাগেজ নিয়ে সড়কপথে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
বুধবার সকালে রাজশাহীর হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করেন ক্রিকেটার মেহেরাব হোসেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় কাভার্ডভ্যানের চালক সজীব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীতে আসার পথে হাটিকুমরুল-বনপাড়া বাইপাসের একটি হোটেলে গাড়ি থামিয়ে রাতের খাবার খান তিনি। পরে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়ার একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে দেখতে পান, কাভার্ডভ্যানের পেছনের দরজা খোলা। এরপর দরজা বন্ধ করে তিনি রাজশাহীর হোটেলে যান। সেখানে মালামাল নামানোর সময় আটটি লাগেজ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
থানায় দেওয়া অভিযোগে মেহেরাব হোসেন উল্লেখ করেন, তাঁর হারানো লাগেজে পাসপোর্ট, একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, নগদ তিন লাখ টাকা, প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি পারফিউম ও ব্যবহৃত পোশাক ছিল।
ক্রিকেটার আব্দুল কাদেরের লাগেজে ছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিশেষ ম্যাসাজ বেল্ট, দুই জোড়া জুতা ও পোশাক। মোহর শেখ অন্তরের লাগেজে ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জেবিএল স্পিকার ও পোশাক। ক্রিকেটার মো. ওয়ালিদের লাগেজে ছিল ব্যক্তিগত পোশাক। এ ছাড়া দলের যৌথ ব্যবহারের চারটি লাগেজে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন পোশাক ও সামগ্রী ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্রিকেটার মেহেরাব হোসেন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত মালামাল হারিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দলের খেলোয়াড়েরা।
তাঁরা জানান, আগামী ১৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে তাঁদের পরবর্তী ম্যাচ রয়েছে। এর আগে ব্যক্তিগত মালামাল ও খেলার সরঞ্জাম হারিয়ে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক বলেন, “এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত বিব্রত ও মর্মাহত। অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। খোয়া যাওয়া লাগেজ দ্রুত উদ্ধারে দুই জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে আমরা জেনেছি।”
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, লাগেজ হারানোর ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি নাটোর অথবা রাজশাহী জেলার মহাসড়ক এলাকার মধ্যে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই জেলার পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে এবং রাজপাড়া থানা থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হারানো লাগেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।