
এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোশারফ হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন মেহেরপুরের আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মেহেরপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন মেহেরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া এলাকার নুরন্নেছার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজ বাড়িতে কাজ করছিল। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মোশারফ হোসেন সেখানে প্রবেশ করে এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়িতে একটি মুঠোফোনের রিংটোন শুনে ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন ফোনটি উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর মোশারফ হোসেন এসে ফোনটি নিজের দাবি করে নিয়ে যান। পরে মেয়ের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তার মা জানতে চাইলে সে ধর্ষণের ঘটনা জানায়।
এরপর তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আনোয়ারা খাতুন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি সদর থানার মামলা নম্বর ১৯, জিআর মামলা নম্বর ১১২/২০২৫ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ২৬/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পারভীন সুলতানা এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।