
যেখানে পাহাড় মিশেছে আকাশে, যেখানে পথ হারায় সবুজের গভীরে, সেই ওয়াসু আর আনন্দবাজারের দুর্গম পাড়ায় আজ নেমেছিল মানবতার অন্য এক বর্ষা। বন্দুকের পাহারায় নয়, স্টেথোস্কোপের ছোঁয়ায়, ওষুধের সাদা প্যাকেটে।
রোববার(২নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, মাটিরাঙ্গা জোন সাজিয়েছিল এক ব্যতিক্রমী মানবিক উৎসব। পাহাড়ি-বাঙালি ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল ১৩০ জন মানুষ - ১২০ জন পাহাড়ি আর ১০ জন বাঙালি। একই লাইনে, একই সেবায়, একই বাংলাদেশ।
এই মানবিক অভিযানের নেপথ্য কারিগর মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ মাসুদ খান, পিএসসি। তাঁর দূরদর্শী দিক-নির্দেশনায় এবং উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পটি হয়ে ওঠে সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ রাফিউর রহমান - তাঁর হাতেই ছিল আজকের দিনের ভরসার প্রেসক্রিপশন।
জ্বর, ব্যথা, চর্মরোগের গল্প নিয়ে আসা মানুষগুলো ফিরেছে হাসি আর বিনামূল্যে ওষুধ নিয়ে।
শুধু চিকিৎসা নয়, এদিন পাহাড়ে বাঁচার নতুন স্বপ্নও বোনা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে ২০ জন প্রান্তিক খামারিকে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় উপকরণ - যাতে পাহাড়ের মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, স্বাবলম্বী হতে পারে।
জোন অধিনায়ক বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি শুধু টহলে আসে না, আসে সেবায়, ভালোবাসায়। প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী ছিল, আছে, থাকবে।"
পাহাড় আজ বলছে, বন্দুকের চেয়ে বড় অস্ত্র ছিল একটি প্যারাসিটামল, একটি মমতার হাত। আর সেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মাটিরাঙ্গা জোন।