
পোশাকশ্রমিকদের তিন দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার কয়েকটি এলাকা। বুধবার সকালে হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
অন্যদিকে, সকাল ৯টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এর কিছুক্ষণ পর স্টার টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহন সিরাজী, ৭১ টিভির সাংবাদিক রায়হান বিন এবং ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
এদিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকেরা সড়কে বেরিয়ে আসেন। তারা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
বর্তমানে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা তিন দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।