
রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় একজনকে আহত ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আজ নির্ধারিত হবে।
রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবসহ বাকিরা পলাতক। বাকিরা হলেন- খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন ও খণ্ডন শেষ হয়। সেদিন চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন তার মক্কেলের খালাস দাবি করেন এবং অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। পলাতক চার আসামির পক্ষেও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাদের নির্দোষ দাবি করে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এসব যুক্তির বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিতে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে প্রসিকিউশন সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করে।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফর্মাল চার্জ) দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। সেদিন প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ তাকে অনুসরণ করে এবং ভবনের ছাদে ঝুলে থাকা অবস্থায় এক সদস্য তার দিকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।