শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। গত ১৭ ডিসেম্বর জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। ওই আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শাজাহান খান ও আমুর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে জেড আই খান পান্না

ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করতে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তিনি সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর পক্ষে আইনি লড়াই করতে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসেছেন জেড আই খান পান্না। এ সময় তিনি অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে যান। এ ছাড়াও তিনি প্রসিকিউশনের সদস্য মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান আমি সুস্থ আছি। এর আগে, গত ২১ নভেম্বর সুযোগ পেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করতে চান বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না। গত ২১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। আইনজীবী পান্না বলেন, সুযোগ হলে আমি শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়াবো। গণহারে মামলার সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি সবসময় নিপীড়িতের পক্ষে আছি। সে যেই হোক না কেন। যদি সুযোগ হয় আমি শেখ হাসিনার পক্ষে লড়াই করবো, সেটা ট্রাইব্যুনাল হোক আর অন্য যেকোনো জায়গায় হোক।

চট্টগ্রামের সাবেক এমপি ফজলে করিম কারাগারে

জুলাই আন্দোলনে সংগঠিত মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য এ আদেশ দেন। আসামির বিরুদ্ধে আগামী ৮ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছে ট্রাইব্যুনাল। এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত এই আসামি ছাত্রদের বিষয়ে ইন্ধন জুগিয়েছে। চট্টগ্রামের এই আন্দোলন দমনে ফজলে করিমের নিজস্ব সংসদীয় এলাকা রাউজান থেকে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী সরবরাহ করেছে। ১৬ জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল হত্যার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলো। যার প্রেক্ষিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর এমএইচ তামিম আরো বলেন, সরকার ও জনগণের ইচ্ছা নয় ন্যায় বিচারের স্বার্থে যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। শুনানিতে আসামি ফজলে করিম আদালতে বলেন, তিনি শহরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তখন আদালত তাকে বলেন, তার পক্ষে আইনজীবী এসব অভিযোগ খণ্ডন করতে পারবেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অকাট্য দলিল হিসেবে কাজে লাগবে

জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সাক্ষ্য হিসেবে আসবে। এটি অকাট্য দলিল হিসেবে ব্যবহার করবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার কার্যালয়ের তিনি এমন মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সম্পৃক্তদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। শুধু মৃত্যুদন্ডের বিধানটি ছাড়া গুম নিয়ে জাতিসংঘের সুপারিশ ট্রাইব্যুনাল আগেই বাস্তবায়ন করেছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৮৪৮ জন শহীদের তালিকা জমা দিল বিএনপি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দলের নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি। সেখানে আন্দোলনে দলটির ৮৪৮ জনের শহীদ হওয়ার তালিকা দিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি দায়ের করেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিএনপির মামলা ও সমন্বয় প্রধান সালাহ উদ্দিন খান। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাতসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। তালিকাসহ অডিও ভিডিও ও ৮৪টি মামলার এজাহারের কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন করে বিএনপির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করে। সেখানে ৮৪৮ জনের শহীদের তালিকা জমা দেয় বিএনপি। একইসঙ্গে দেশব্যাপী হওয়া মামলার এজাহার, পত্রিকার ছবি, অডিও ভিডিও জমা দেওয়া হয়েছে। তারা হত্যার সঠিক বিচার, ন্যায়বিচার দাবি করেন তারা।

অন্তর্বর্তী সরকার আইনি দলিল ও জনগণের ইচ্ছা দিয়ে গঠিত: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনি দলিল দিয়ে সমর্থিত ও বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার দ্বারা গঠিত বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট খারিজের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠন বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চান। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা শপথ নেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠানো রেফারেন্স ও মতামতের প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহসীন রশিদ। শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৩ জানুয়ারি রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন। রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ আদেশ আজ প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনও আইনি দলিল দিয়ে সমর্থিত নয় বলে রিট আবেদনকারীর (আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ) বক্তব্যে এসেছে। উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এক অনন্য পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপদেষ্টামূলক মতামত গ্রহণ করেন। মতামত অনুযায়ী কাজ করেছেন। তাই এটি আইনি দলিল দিয়ে সমর্থিত, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার দ্বারা সমর্থিত। পূর্ণাঙ্গ আদেশে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তা আমাদের ইতিহাসের অংশ এবং আশা করি, আগামী বহু বছর ধরে জনগণ যত্নে থাকবে। রিটটি ভ্রান্ত ধারণা, বিদ্বেষপ্রসূত ও হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তা সরাসরি খারিজ করা হয়।

বেনজিরকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারির নির্দেশ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুদকের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, মূলত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিচালক হাফিজুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। . ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চার মামলা করে দুদক। মামলায় বেনজীর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে একটি সূত্রের দাবি, বেনজীর পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ ও ৩ এপ্রিল ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। সেখানে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে আসে। এরপর ১৮ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের এক সভায় অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়। পরে অনুসন্ধানে বেনজীর ও তার পরিবারের নামে ৬৯৭ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি বিও হিসাব খুঁজে পেয়ে আদালতের আদেশে এসব সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করে দুদক। বেনজীরের বিরুদ্ধে এপ্রিলে অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি দেশত্যাগ করেন। এরই মধ্যে ২৮ মে তাদের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দফায় তলব করলেও তারা দুদকে আসেননি। আর গত ২ জুলাই বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে পৃথক নোটিশ পাঠিয়েছিল দুদক। এ নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে আগস্টের মাঝামাঝি আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশের সাবেক প্রধান তার পরিবারের চার সদস্যের সম্পদ বিবরণী জমা দেন। এর আগে গত বছরের ২৩ মে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) ও ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। অন্যদিকে গত ২৬ মে আদালত বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামের ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানে ৪টি ফ্লাট জব্দের আদেশ দেন। সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি ক্রোক করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব সম্পত্তি দেখভালে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের আইজি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাব এবং র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীরও ছিলেন বলে জানা গেছে। যদিও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।

আমি বিএনপি করতাম, আদালতে শমসের মবিন

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরীকে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সিএমএম আদালতে তাদেরকে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার পারভেজ মিয়া হত্যা মামলার আসামি শমসের মবিন চৌধুরী দাবি করেন, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের দিন বাসায় ছিলেন। আদালতের কাছে নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় তুলে ধরেন তিনি। শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি কোনো খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি তো প্রমাণ করে দিতে পারব ৫ আগস্ট আমি বাসায় ছিলাম। আমাকে রিমান্ডে দেওয়ার আবেদন নাকচ করা হোক।’ একপর্যায়ে শমসের মবিন চৌধুরী আদালতকে বলেন, ‘আমি তো ১৫ বছর বিএনপির রাজনীতি করেছি মাননীয় আদালত।’ শমসের মবিন চৌধুরীর এ বক্তব্যের পর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী তার রিমান্ডের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শমসের মবিন চৌধুরী পলটিবাজ নেতা। তিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী। জুলাই–আগস্টে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের একজন হলেন শমসের মবিন চৌধুরী। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মবিন চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরীকে গত বছরের ১৭ অক্টোবর গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০১৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন তিনি। সবশেষ ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন হন তিনি। তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাজমুল হুদা। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিএনপিকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

৭৮ দিনের রিমান্ডে সাবেক আইজিপি মামুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পথচারী মো. মাসুদুর রহমান জনি হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৩ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এ নিয়ে বিভিন্ন থানার মামলায় মোট ৭৮ দিন রিমান্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারী) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে মাসুদুর রহমান জনি হত্যা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সিকদার মহিতুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি শুনানি করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আদালতে বলেন, উনাকে এ পর্যন্ত ৭৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উনি যা যা বলার সব বলেছেন। আর রিমান্ডের প্রয়োজন নেই।’ শুনানি শেষে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কয়েকটি দফা রিমান্ড শেষে পুনরায় রিমান্ডে পাঠায় আদালত। মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট দুপুরে মো. মাসুদুর রহমান জনি (৪০) কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়ি ডেমরায় ফেরার পথে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন চৌরাস্তা থানার সামনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিতে আহত হন। পরে তাকে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১২ আগস্ট ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় গত ২৯ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটা হত্যা মামলা করা হয়।

আবরার হত্যা: হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি চলছে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার মামলায় দণ্ডিত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চে শুনানি হয়। ওই দিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসিম সরকার। তিনি মামলার পেপারবুক থেকে এজাহার, অভিযোগপত্র, জবানবন্দি ও রায়ের অংশবিশেষ উপস্থাপন করেন। এরপর বিচারিক আদালতের রায় ও যুক্তিতর্ক তুলে ধরে শুনানি হবে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসিম সরকার ও রাসেল আহমেদ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল লাবনী আক্তার। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী। ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছায়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড‍ দেওয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এছাড়া এ মামলার রায় অনুযায়ী আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। পরে কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেন। পাশাপাশি অনেকে ফৌজদারি আপিলও করেন। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১’-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ওই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল (২৪), মো. অনিক সরকার ওরফে অপু (২২), মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত (২৩), ইফতি মোশাররফ সকাল (২০), মো. মনিরুজ্জামান মনির (২১), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (২৩), মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ (২০), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (২১), খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম অরফে তানভির (২১), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (২১), মো. শামীম বিল্লাহ (২১), মো. সাদাত এ এস এম নাজমুস সাদাত (২১), মুনতাসির আল জেমী (২০), মো. মিজানুর রহমান মিজান (২২), এস এম মাহমুদ সেতু (২৪), সামসুল আরেফিন রাফাত (২১), মো. মোর্শেদ অরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (২০), এহতেশামুল রাব্বি অরফে তানিম (২০) (পলাতক), মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মণ্ডল প্রকাশ জিসান (২২) (পলাতক), মুজতবা রাফিদ (২১) (পলাতক)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন অমিত সাহা (২১), ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (২১), মো. আকাশ হোসেন (২১), মুহতাসিম ফুয়াদ (২৩) ও মো. মোয়াজ অরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা (২১)। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

জাহিদ মালেক ও নাইমুল ইসলামসহ ৬ জনের আয়কর নথি জব্দ

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক ও তার ছেলে রাহাত মালেক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান, তার স্ত্রী নাসিমা খান মন্টিসহ ছয়জনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন। রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের পৃথক ছয় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আয়কর নথি জব্দ হওয়া অন্যরা হলেন- কোয়ালিটি মিল্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল ইসলাম এবং সাবেক কানুগগো আবুল হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় তাদের আয়কর নথি জব্দের আদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পারভেজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে উপকারি পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এস এম পারভেজ তমাল এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান পদে থেকে অন্যান্যদের সাথে যোগসাজশে শেয়ার বাজার কারসাজি ও অন্যান্য অপরাধের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন ও মানি লন্ডারিং করেছেন। তার দেশত্যাগের প্রচেষ্টার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন।

শিবলী রুবাইয়াতের জামিন চাইলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা!

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের রিমান্ড শুনানিতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন জামিন চেয়ে শুনানি করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রিমান্ড শুনানির জন্য দুপুর ১২টায় এজলাসে তোলা হয় তাকে। দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করার স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। যে টাকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সেটা কোনো অবৈধ টাকা না। এখানে কোনো মানি লন্ডারিংয় হয়নি।’ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। এর আগে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান। ওই দিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন। বুধবার দুদকের উপপরিচালক (মানিলন্ডারিং) মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে শিবলী রুবাইয়াতসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন মোনার্ক হোল্ডিং ইনকর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জাবেদ এ. মতিন, ঝিন বাংলা ফেব্রিক্সের প্রোপাইটর আরিফুল ইসলাম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির দিলকুশা শাখার ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের সাবেক ইনচার্জ ইসরাত জাহান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল হোসেন, এসইভিপি সৈয়দ মাহবুব মোরশেদ। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘ভুয়া বাড়িভাড়া চুক্তিনামা দেখিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আসামি শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এক কোটি ৯২ লাখ টাকা বা প্রায় দুই লাখ ২৬ হাজার ৩০৮ ইউএস ডলার ঘুষ গ্রহণ করেন। এছাড়া ভুয়া বিক্রয় চুক্তি দেখিয়ে পণ্য রপ্তানি না করে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে।’ ব্যাংক কর্মকর্তারা কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স অনুসরণ না করে, পণ্য রপ্তানির বিপরীতে কোনরূপ রেকর্ডপত্র না পেয়েও কর্তব্যে অবহেলা ও পরস্পর যোগসাজশে 'নিজের বা অন্য কারও অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তিন লাখ ৬১ হাজার ইউএস ডলার টাকা বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে তিনি এক কোটি ৮৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা নিজে গ্রহণ করেন।

নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দিলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা

নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ তিন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মহানগর বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপার এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ম্যুরালটি ভাঙা হয় ৷ এরপর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের ম্যুরালটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও ডিসি অফিসের নিচে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত কর্নারও ভেঙে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘অনেক কষ্টের বিনিময়ে এই ফ্যাসিস্টদের পরাস্ত করা হয়েছে। অবশেষে তারা পালিয়ে গেছে। কিন্তু ফ্যাসিস্টরা নানা চিহ্ন রেখে গেছে। যে কারণে আমরা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের সবকিছু গুঁড়িয়ে দিয়েছি। এখানে জুলাই আন্দোলনে নিহত নারায়ণগঞ্জের শহীদদের নামের তালিকা স্থাপন করা হবে।’ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘স্বৈরাচারের এই চিহ্নগুলো ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে কলুষিত করে। এই শহরে এসব চিহ্ন কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আগামীতে সকল স্বৈরাচারের প্রতীক এভাবেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান, সাবেক সভাপতি আব্দুল বারী ভূঁইয়া, মহানগর বিএনপির সদস্য রফিক আহমেদ, জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জাকিরসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

হাইকোর্টে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা

তিন দশক আগে পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ঈশ্বরদী থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার জাবেদ আক্তার। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত সাংবাদিককে কাকরাইলস্থ ইসলামী ব‍্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় বৈশাখী টেলিভিশনের মাইক্রোফোন ভাংচুরসহ মারধর করা হয় আরও কয়েকজন সাংবাদিককে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রায় ঘোষণার পর বেলা ১২টার দিকে হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে এ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ব্রিফিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সাংবাদিকরা। হঠাৎ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের উপস্থিতিতে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী হট্টগোল শুরু করেন। এর প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক ব্রিফিং বর্জনের পাশাপাশি অ্যানেক্স চত্বরে বসে পড়েন সাংবাদিকরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি জানান সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকরা।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সব আসামি খালাস

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির ৯ জনসহ সাজাপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষ হয়। আলোচিত এই মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই ৯ জনকে ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আসামিদের সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। এরইমধ্যে এ মামলার পাঁচ আসামি মারা গেছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেন মার্চ করেন তিনি। ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছলে শেখ হাসিনার অবস্থা লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয় বলে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় দাসকে জামিন দিতে হাইকোর্টের রুল

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ইসকনের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য ও প্রবীর রঞ্জন হালদার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। গত ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ হয়। এর কয়েক দিন পর গত ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। এ মামলায় আরও ১৮ জনকে আসামি করা হয়। গত ২২ নভেম্বর চিন্ময়ের নেতৃত্বে রংপুরে আরও একটি বড় সমাবেশ হয়। এরপর রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। পর দিন জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। আদালত চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে সেদিন চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে চিন্ময়ের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবীর সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত চত্বরের বাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এরপর থেকেই কারাগারে আছেন চিন্ময়। গত ২ জানুয়ারি চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালত। এরপর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন চিন্ময় দাস।

মানহানির মামলায় সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার শুরু

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্য শহীদদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় তার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হল। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি একই আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ছিল। ওইদিন তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। একই সঙ্গে তার আইনজীবী শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি ঠিক করেন। একইসঙ্গে তাপসী তাবাসসুমের জামিন মঞ্জুর করেন। তার আগে গত বছরের ৮ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। ওইদিন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত আসামিকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। মামলার আবেদনে বলা হয়, ‘গত ৫ অক্টোবর আসামি ঊর্মি শুধু শহীদ আবু সাঈদ নয়, সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও ছাত্র-গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার ও সরকার প্রধান নোবেল বিজয়ী প্রধান উপদেষ্টা জনাব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও অবমাননাকর বক্তব্য ফেসবুক লিখেন। যার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেফারেন্সের ভিত্তিতে সংবিধান সম্মতভাবে গঠিত একটি সরকার প্রধান সম্পর্কে বিষোদগার করা হয়েছে এবং সরকার উৎখাতের হুমকি দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।’

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ৫ দিনের রিমান্ডে

রংপুর থেকে গ্রেফতার সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে তোলা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবী রানী রায় এ রিমান্ড দেন। এর আগে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে মাহমুদুল হাসান মুন্না হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন লিগ্যাল এইডের অ্যাডভোকেট ইতফা আক্তার। এর আগে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানকে রাত ৯টার দিকে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের পোস্ট অফিসের গলির মধ্যে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মাহামুদুল হাসান মুন্না নিহতের ঘটনায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার ছেলেসহ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় গত বছরের ২৭ অক্টোবর সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ছোট ভাই শামসুজ্জামান আহমেদ ভুট্টুকে কালীগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এদিকে লালমনিরহাট জেলাতেও ৫ আগস্টের পর সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের নামে আটটি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ শিবলী কায়সার বলেন, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। সাবেক এ মন্ত্রীকে চেকআপের জন্য রংপুর মেডিকেলেও নেওয়া হয়। আজ শুক্রবার রিমান্ড আবেদনের জন্য আদালতে তোলা হয় তাকে।

ছুটিতে পাঠানো হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের পদত্যাগ

ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হওয়ার অভিযোগে ছুটিতে পাঠানো হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।’ গত ১৬ অক্টোবর শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠায় ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাদের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ওই ১২ বিচারপতি হলেন বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি আতাউর রহমান খান, বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন, বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম, বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান। ১২ বিচারপতির বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া দলবাজ বিচারপতি হিসেবে চিহ্নিতদের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া সাধারণ আইনজীবীরাও দলবাজ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন।

এবার মাদক মামলায় সম্রাটের বিচার শুরু

অস্ত্র মামলায় বিচার শুরুর আদেশের দুই দিন পর এবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। রাজধানীর রমনা থানায় করা মাদক মামলাটিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদার আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। পাশাপাশি তার জামিন বাতিন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালীন ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাটকে আটক করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওইদিন বেলা ২টার দিকে র‌্যাবের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বাহিনীটির একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। এ সময় তার কার্যালয় অবৈধ পশুর চামড়া পিস্তল এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। কার্যালয়ে অবৈধভাবে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।পরদিন র‌্যাবের ডিএডি আব্দুল খালেক অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। সম্রাটকে কারাগারে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি জামিন পান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি আর আদালতে হাজির হননি। সম্রাট কারাগারে থাকা অবস্থায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় এখনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে অস্ত্র আইনের মামলায় গত মঙ্গলবার সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়ার আদালত।

প্রতারণা মামলায় ইভ্যালির রাসেল ও তার স্ত্রীর কারাদণ্ড

প্রতারণার দায়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌসিফ মাহমুদ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে ইভ্যালি থেকে ২০২১ সালের ২০ মার্চ ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ বাইক অর্ডার করেন মামলার বাদী তৌফিক মাহমুদ। মূল্য বাবদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। ৩ এপ্রিল তিনি আর ওয়ান ফাইভের আরও দুটি বাইক অর্ডার করেন। যার মূল্য বাবদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে কর্তৃপক্ষ ৪৫ দিনের মধ্যে বাইক তিনটি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়। পরে ইভ্যালির ধানমন্ডি অফিসে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ তৌফিক মাহমুদকে দুটি চেক দেয়। ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি নির্ধারিত তারিখে ব্যাংকে জমা না দিতে অনুরোধ করা হয়। টাকা আদায়ে বারবার তাগাদা দিতে থাকেন তিনি। কিন্তু রাসেল-শামীমা কোনো টাকা ফেরত না দেয়ায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠান তিনি। পরে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে মামলা করেন তৌফিক মাহমুদ।

কারাগারে ফ্লোরেই ঘুমান সালমান এফ রহমান

কারাগারে থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের চক্রান্ত করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। আদালতে এসেও সরকারের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তানুসারে সবাইকে ‘প্রস্তুত’ থাকতে নির্দেশনা দেন সালমান এফ রহমান।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখাতে সোমবার সকালে সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১০ জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে ১০টা ২২ মিনিট পর্যন্ত ধাপে ধাপে আদালতের হাজতখানা থেকে এই ১০ আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামানের এজলাসে তোলা হয়। কাঠগড়ায় আসা মাত্রই আসামিদের আইনজীবীরা তাদের কাছে চলে আসেন। তখনও বিচারক এজলাসে এসে শুনানি শুরু করেননি। এই সুযোগে সালমান এফ রহমানের কাছে তার আইনজীবী গোলাম মোনতাজা ও মুকুলসহ আরও কয়েকজন হাজির হন। মোনতাজাকে কাছে ডেকে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের কী খবর? এরা কী করতেছে? সরকার আমার ৪০ হাজার শ্রমিকের চাকরি খেয়েছে। ১০ হাজার শ্রমিক মাঠে নামলেই তো হয়। আমি চাইছিলাম কোম্পানিটা চালানো হোক। এখন দেশের যে অবস্থা।’এ সময় সালমান এফ রহমান আইনজীবীদের কাছে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। তখন তাকে আইনজীবীরা জানান, ‘রোববার ইবতেদায়ি শিক্ষকদের মারধর করা হয়েছে। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়েছে। শুনেছি ২ জন মারাও গেছে স্যার।’এ সময় সালমান এফ রহমান মুচকি হেসে বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) কী বার্তা দিয়েছেন।’ এ সময় আইনজীবীরা কোনো উত্তর না দিলেও তিনি পুনরায় বলেন, ‘নেত্রীর বার্তা অনুযায়ী সবাইকে রেডি থাকতে বলেন।’ এ সময় বিভিন্ন আইনজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ, বিচারপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তখনো বিচারক এজলাসে না থাকায় শুনানি শুরু হয়নি।এ সময় একজন সাংবাদিক সালমান এফ রহমানের কাছে কারাগারে কেমন আছেন বলে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা যে লেখে-আমাকে হটপটে খাবার দেয়। এসব মিথ্যা। ঠিক সময়ে খাবার দেয় না। রাতের খাবার বিকাল ৪টায় দেয়। এছাড়া কুরআন শরিফ দেয় না। জায়নামাজও দেয় না। ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দেয় না অনেক আগে থেকেই। আমি ফ্লোরে ঘুমাই।’সে সময় সেখানে উপস্থিত এক আইনজীবী আল ইমরান (মুকুল) বলেন, ‘উনি বলছিলেন বেক্সিমকোর ৪০ হাজার শ্রমিকের কাজ বন্ধ। বিভিন্ন ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিচ্ছে। ’ তিনি বলছিলেন, আমার কোম্পানি বন্ধ করলে আমি করব, সরকার কেন করবে। এসব নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছিলেন।’ নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুত থাকার বিষয়ে কী বার্তা দিচ্ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি ছিলাম না।’এদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে রিট

সুপ্রিম কোর্টে দায়েরকৃত জনগুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিক মামলাসমূহের শুনানি সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করা হয়। আইনজীবীসহ ১০ জন বাদী হয়ে এই রিট দায়ের করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল্লাহ সাদিক, মিজানুল হক, ঢাকা কোর্টের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ, শিক্ষানবিশ আইনজীবী মাহমুদুল হাসান, সাব্বির আহমদ এবং চারজন আইনের ছাত্র বাদী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। রিটকারীদের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, তথ্য জানার অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত। স্বচ্ছ বিচার পাওয়া সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ অনুযায়ী স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক বিচার একটি মৌলিক অধিকার। তাই রিটটি দায়ের করা হয়েছে। শিশির মনির বলেন, রিটে নিম্নোক্ত বিষয় চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ মামলাসমূহের শুনানি কেন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না এই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে যেন আপিল বিভাগে চলমান গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করার ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহযোগিতা দেওয়া হয়। রিটে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।