
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই অঙ্ক পুরো অর্থবছরের নির্ধারিত ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা অর্থনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরের জন্য ব্যাংক ঋণের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই সেই সীমা অতিক্রম করে আরও বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারের মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদন বলছে, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে এই ঋণ সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ট্রেজারি বিল থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ট্রেজারি বন্ড থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণ কাঠামোর মাধ্যমে সরকারের ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তিতে ধীরগতির কারণে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও চাপের মধ্যে ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এতে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সরকার যদি অতিরিক্ত হারে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তবে তারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ঋণ নেওয়া অনেকটাই অনিবার্য। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচন এবং বিকল্প অর্থায়নের উৎস খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।