
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, কিছু শর্ত পূরণে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই সেগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ সদর দফতরে সংস্থাটির দুটি টিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। ওই সময় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক খাতের সংস্কার, নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন এবং রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি, এসব বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও আরও কাজ বাকি রয়েছে। তবে তিনি বলেন, পরবর্তী কিস্তি ছাড়ে বড় কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমে ঋণ স্থগিতের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, আইএমএফের ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কয়েকটি কিস্তিতে অর্থ পেয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি, ডিসেম্বর এবং ২০২৪ সালের জুনে তিন দফায় অর্থ ছাড় হয়।
পরবর্তীতে চলতি অর্থবছরে আরও একটি বড় কিস্তি পাওয়া যায়। তবে ডিসেম্বরের একটি কিস্তি আটকে যায়, যা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ঋণ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার এখনো পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জুনের মধ্যে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের আশা করছে বাংলাদেশ।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পরে মেয়াদ ও পরিমাণ বাড়িয়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শর্ত বাস্তবায়নের গতি ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি এই ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।