
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন হতে পারে। এটি প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক কবীর হোসেন বলেন, “আমাদের দিক থেকে আর কোনো জটিলতা নেই। কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করবে। সে অনুযায়ী জ্বালানি লোডিং শুরু হবে।”
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, আগে ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাই একমত হয়ে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।”
এদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সেফগার্ড নিশ্চিত করেই জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি প্রবেশের পর অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলবে। এ সময় বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন নিতে হবে। ফলে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।