
আসন্ন উৎসবের মৌসুমে নতুন টাকার নোট ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ সিন্ডিকেট ও কালোবাজারি রুখতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাপানো নতুন নোট খোলাবাজারে চড়া মূল্যে বিক্রির কার্যক্রমকে ‘অবৈধ’ অভিহিত করে এটি বন্ধের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।
অসাধু চক্র ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশ
সাধারণত ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার মতো বড় উৎসবগুলোতে নতুন নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল অসাধু দালাল চক্র কিছু ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় বিপুল পরিমাণ নতুন টাকা সংগ্রহ করে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, এই চক্রটি পরবর্তীতে খোলাবাজারে দরকষাকষির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে নতুন টাকা বিক্রি করে। গত ঈদেও দেখা গেছে, সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকে গিয়ে নতুন নোট না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন, অথচ বাইরে কালোবাজারে টাকার ছড়াছড়ি ছিল।
আইনি নোটিশের পর্যবেক্ষণ
নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীর মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন ও আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। নোটিশে উল্লেখ করা হয়:
“এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সাধারণ জনগণের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থের পরিপন্থি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
দেশের মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকা সত্ত্বেও এই অবৈধ তৎপরতা বন্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়াকে ‘চরম অবহেলা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৫ দিনের আল্টিমেটাম
জনস্বার্থে পাঠানো এই আইনি নোটিশে গভর্নরকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে:
খোলাবাজারে নতুন নোটের কেনাবেচা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
ব্যাংকগুলোতে নতুন নোট বিতরণের জন্য পৃথক ডেস্ক স্থাপন।
পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই নোটিশের জবাব চাওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর বা কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের নতুন টাকার প্রাপ্তি সহজতর হবে এবং অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।