
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে পরিচালিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন কয়েকজন সাবেক ব্যাংকারকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে পদত্যাগ করা ও অনিয়মের সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকে এমডি পদে আবেদন করা ছয়জন ব্যাংকারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি জাফর আলম, যিনি একসময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ে ব্যাংকটির নেতৃত্বে ছিলেন এবং পরে পদত্যাগ করেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিন আরও সাক্ষাৎকার দেন সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি রফিকুল ইসলাম, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের বাংলাদেশ শাখার প্রধান মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন। মোট ১২ জন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রথম ধাপে ছয়জনের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে এবং পরদিন আরও ছয়জনকে ডাকা হবে।
সরকার পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক এই একীভূত কাঠামোর অংশ। এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটির মালিকানা আগে ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে, আর এক্সিম ব্যাংক ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকটি এখন সরকারি মালিকানাধীন হওয়ায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তদারকি করছে। তবে বিতর্কিত অতীত থাকা কিছু প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারে অন্তর্ভুক্ত করায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমডি নিয়োগ কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন।
আরও জানা গেছে, সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি নুরুদ্দিন মো. ছাদেকের নাম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ব্যাংকটিতে অনিয়মের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে পদত্যাগ করেন। একই ধরনের বিতর্ক জাফর আলমকেও ঘিরে রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয় এবং শেষ মুহূর্তের তথ্যের কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিতর্কিত কেউ যেন শেষ পর্যন্ত এমডি হতে না পারেন, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে বলেও তারা জানান।
এর আগে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রথম এমডি হিসেবে ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি যোগদান করেননি। একই সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করেন, ফলে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরুতেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।