
দেশের শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে থাকা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকিং সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণে এখন ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ।
২০০১ সালের ১০ মে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি বর্তমানে দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যেও অন্যতম মজবুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এসজেআইবিপিএলসি। ব্যাংকটির ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমসাময়িক ব্যাংকিং খাত, ডিজিটাল রূপান্তর, গ্রাহকসেবা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকাওয়াচ-এর বিজনেস এডিটর ফরিদ উদ্দিন শ্রাবণের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
ঢাকাওয়াচ: বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে আপনার ব্যাংকিং কৌশল কী?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কারণে নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব কারণে ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, বেসরকারি খাতে ব্যবসার মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য, যুদ্ধ-সংঘাতের প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে অনেক ব্যাংকই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জময় পরিস্থিতির মধ্যেও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি অব্যাহত সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে। তবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক অন্যসব ব্যাংকের মতো ব্যাংকিং করে না। একটু ভিন্নভাবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ব্যাংকিং করে। যার ফলে অন্যসব ব্যাংকের চেয়ে অনেকগুণ মজবুত হচ্ছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক। আমরা ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি। তারপর গ্রাহককে ঋণ দিয়ে থাকি। তাই অন্যসব ব্যাংকের চেয়ে আমাদের ঝুঁকি কম থাকে। আমরা ঝুঁকিটাকে আগে মোকাবিলা করি। ফলে আমাদের খেলাপি ঋণের মাত্রা অনেক কম। এছাড়া আমরা আমানত গ্রহণ করি ৮ শতাংশে। অন্যসব ব্যাংক সেখানে ১০ শতাংশের উপরে আমানতের মুনাফা দিয়ে থাকে। যার কারণে আমরা ব্যবসায়ীদের কম মুনাফায় ঋণ দিতে পারি।
ঢাকাওয়াচ: ব্যাংকের সেবার পরিধি ও গ্রাহকরা কী কী সুবিধা পাচ্ছেন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: ২৫ বছরে সফল যাত্রায় শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেশব্যাপী ১৪২টি শাখা, ৫টি উপশাখা, ১৫২টি এটিএম বুথ, ১৩০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং প্রায়োরিটি সেন্টারের মাধ্যমে অত্যন্ত সুনাম ও আস্থার সঙ্গে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। এছাড়া ঘরে বসে অ্যাপসের মাধ্যমে ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন করতে পারছেন গ্রাহকরা। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ইসলামী শরিয়াহর ওয়াকালাহ ধারণা অনুসরণ করে চালু করেছে ইসলামী ক্রেডিট কার্ড। আমাদের রয়েছে টোয়েন্টিফোর আওয়ার এটিএম সার্ভিস ও রিয়েল টাইম অনলাইন ব্যাংকিং। আমাদের রয়েছে এসএমএস পুশ-পুল সার্ভিস, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক তাঁদের লেনদেনের তথ্য ও ব্যালেন্স জানতে পারেন। বৈদেশিক রেমিট্যান্স সেবা প্রদানের জন্য বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রেমিট্যান্স কোম্পানির সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, এক্সপ্রেস মানি, রিয়া, ট্রান্সফাস্ট, ব্র্যাক সাজন, ন্যাশনাল মানি ও আল জামানসহ আরও কিছু উল্লেখযোগ্য মাধ্যমে প্রবাসীরা নিরাপদ ও দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে পারেন, যা তাঁদের আত্মীয়-স্বজন আমাদের ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে উত্তোলন করতে পারেন। তাছাড়া আমাদের সব শাখায় রয়েছে অনলাইনভিত্তিক ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুবিধা। একজন গ্রাহক তিতাস গ্যাস, পিডিবি, পল্লী বিদ্যুৎ, ওয়াসা, ডিপিডিসি, ডেসকো এবং বিটিসিএলের সব ধরনের ফি ও ট্যাক্স শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখার মাধ্যমে জমা দিতে পারেন। ব্যবসায়ীদের জন্য শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের সব শাখায় রয়েছে ই-জিপি সার্ভিস, যার মাধ্যমে সব ধরনের সরকারি টেন্ডার অনলাইনে দাখিল করা যায়। এই ই-জিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পে-অর্ডারের জন্য কোনো ধরনের চার্জ আরোপ করা হয় না। শুধু তাই নয়, ই-জিপি সার্ভিসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আর্নেস্ট মানি সংস্থানের জন্য অত্যন্ত সহজ শর্তে আর্নেস্ট মানি অথবা পে-অর্ডার ফাইন্যান্স স্কিম রয়েছে, যার মাধ্যমে দরদাতারা সহজেই টেন্ডার ডকুমেন্ট দাখিল করতে পারেন। আমরা আমাদের ব্যাংকিং সেবাকে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ব্যাংকিং সেবাকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিস্তৃত করতে চাই, যাতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তিও প্রতিটি ব্যক্তির আরেকটি মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। তাহলেই সর্বত্র একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে।
ঢাকাওয়াচ: আস্থাহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন ফেরাতে করণীয় কী?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সুশাসন চাইলে সবার আগে ব্যাংকের পর্ষদকে এগিয়ে আসতে হবে। পর্ষদ যদি নিজেরাই সুশাসন মেনে চলে, তাহলে ভেতরের কেউ অনিয়ম করার সাহসই পাবে না। এটা শুধু দায়িত্ব নয়, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য খুবই জরুরি।
ঢাকাওয়াচ: শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে শরিয়াহ পর্ষদ কতটা স্বাধীন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে দুটি পর্ষদ রয়েছে। একটি পর্ষদ হচ্ছে ব্যাংকের মালিকদের পর্ষদ। আরেকটি হচ্ছে শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদ, যেখানে সরাসরি মালিকরা থাকেন না। তাই দেখা গেছে, অনেক ব্যাংকেই ব্যাংকের পর্ষদ যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদকে নিতে হচ্ছে। সেখানে শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদকে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই এমন আইন থাকার দরকার শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে, যাতে মালিকদের পর্ষদ ও শরিয়াহভিত্তিক পর্ষদ একইভাবে শক্তিশালী হয়। এখানে দুই পর্ষদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এতে একদিকে ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। তাই এ দুটি পর্ষদই আইনের কাঠামোয় একইভাবে শক্তিশালী হওয়া উচিত।
ঢাকাওয়াচ: বর্তমান পর্ষদ কীভাবে সহযোগিতা করছে আপনাকে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বর্তমানে ব্যাংকের ভালো ও নির্ভরযোগ্য বোর্ড অব ডিরেক্টরস রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য প্রশংসিত। বিজ্ঞ পর্ষদ তাঁদের সুচিন্তিত নীতি ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছেন। পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে শতভাগ স্বচ্ছতা রয়েছে। যার ফলে বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৫ থেকে ৬-এর ভেতরে রয়েছে।
ঢাকাওয়াচ: আরও সেবা বাড়ানোর জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: আমরা ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে ঋণের আবেদনসহ সব ধরনের লেনদেন করা যাবে। ডিজিটাল লেনদেনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যেন প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভার ডাউন হওয়ার ঝুঁকি সর্বনিম্ন থাকে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দ্বিধা বা শঙ্কা না থাকে। প্রযুক্তি যত সহজ ও সাবলীল হবে, সাধারণ মানুষ তত বেশি নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে আগ্রহী হবে। তাই ব্যাংকিং সেবায় ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছি।
ঢাকাওয়াচ: ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়তে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উৎকর্ষে ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়ায় ক্রেডিট কার্ড এখন ক্যাশলেস অর্থনীতির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও অ্যাপভিত্তিক সেবার সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের এই সমন্বয় ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে। তাই আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়েই বেশি জোর দিচ্ছি।
ঢাকাওয়াচ: ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন কারা?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে অধিক সংখ্যক গ্রাহককে ঋণ সুবিধার আওতায় আনতে কাজ করছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রাণ। তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছি। বৃহৎ ঋণের চেয়ে আমরা ছোট ঋণে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রিটেইলার, এসএমই, কৃষি, গবাদিপশু, মসলা ও মসলাজাতীয় পণ্য, ফলজসহ বেশ কিছু খাতের ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রতিটি শাখা প্রধানকে গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত গ্রাহকরা যেন ঋণ পেতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
ঢাকাওয়াচ: সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কতটুকু কাজ করছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে কিছুসংখ্যক খ্যাতনামা শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে উন্নত ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিম্নবিত্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এ ব্যাংক অংশগ্রহণ করে আসছে। তাছাড়া সমাজের দুঃস্থ, অসহায় ও সম্বলহীন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, মেধাবী ও গরিব ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানাবিধ জনহিতকর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অব্যাহতভাবে মানবকল্যাণে সাধ্যমতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ঢাকাওয়াচ: ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার কথা জানতে চাই?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: বর্তমানে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এই ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৩ জন। দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর মধ্যে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক অন্যতম। এই ব্যাংকে গ্রাহকদের আমানত ও বিনিয়োগ দুটিই অধিকতর নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। গ্রাহকদের উৎকৃষ্ট ও আন্তরিক সেবা প্রদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক অর্জন করেছে বেশ কয়েকটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার।
ঢাকাওয়াচ: ব্যাংক নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ: সেবা বাড়ানোর জন্য শাখার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে জোর দিচ্ছি, যাতে ঘরে বসেই সবাই ব্যাংকিং সেবা পেতে পারেন। এছাড়া রেমিট্যান্স গ্রাহকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সিএমএসএমই খাতের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে দেশের ৯০ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এই খাতের। খাতটি দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র্য বিমোচনই সিএমএসএমই খাতের মূল লক্ষ্য। দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে প্রায় ২৫ শতাংশ অবদান এ খাতের। তাই আমরাও কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সিএমএসএমইতে ঋণের পরিমাণ বাড়াব। এছাড়া আমাদের পরিকল্পনা হলো, ওভারডিউ, ক্লাসিফায়েড ও অবলোপনকৃত বিনিয়োগ থেকে আদায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা। চলমান মামলাগুলো গতিশীল করা এবং স্থগিত হয়ে থাকা মামলাগুলোকে পুনরায় সচল করা।