
আগামী জাতীয় বাজেটে রাজস্ব আদায়ের আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এতদিন যেসব খাত ও শ্রেণি রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে ছিল, সেগুলোকে এবার কর নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) আগারগাঁওয়ের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-এ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের হার বিশ্বের তুলনায় অনেক কম। দেশের উন্নয়ন ও অর্থায়নের চাহিদা পূরণে রাজস্ব আয় বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেকদিন ধরেই রাজস্ব নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে একই মানুষ বারবার কর দিচ্ছেন। এতে তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই নতুন করদাতা যুক্ত করতে হবে।”
মন্ত্রী জানান, অনেকেই হয়তো ন্যূনতম আয়কর দিয়েও কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। এতে ভবিষ্যতে তারাও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকার সবাইকে কর নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছে বলেও জানান তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “রাজস্ব আদায় বাড়লে তার সুফল জনগণের কাছেই যাবে। এটি একটি নির্বাচিত সরকার। আগে কিছু মানুষের পকেটে সুবিধা গেছে, এখন সেই সুবিধা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।”
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন। সে বিষয়গুলো মাথায় রেখেই বাজেট পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি জানান, বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
বিগত সময়ে নেওয়া কিছু প্রকল্পে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এসব প্রকল্প চিহ্নিত করবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নেই সেগুলো বাদ দেওয়া হবে। আর অসমাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।