
খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)। এই সুপারিশ অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা কমবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিইআরসি আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব ও পর্যালোচনা উপস্থাপন করা হয়।
১৩ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয়ের লক্ষ্য
কারিগরি কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাবে বলা হয়েছে। এই বিশাল রাজস্ব চাহিদা মেটানো এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাতে ইউনিটপ্রতি গড়ে ১.২৫ টাকা দাম বাড়ানোর এই সুপারিশ করা হলো।
কমছে বিতরণ লোকসান (সিস্টেম লস)
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম লস বা বিতরণ লোকসান আগের তুলনায় কিছুটা কমছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ সিস্টেম লস থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে আশা করছে কমিটি।
অপরিবর্তিত থাকছে বিদ্যমান 'স্ল্যাব' বা ট্যারিফ কাঠামো
গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ বা দাম নির্ধারণের কাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে টিইসি। লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট) এবং এর পরবর্তী ধাপগুলোর বিদ্যমান 'স্ল্যাব' বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্তরে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের দাম হিসাব করা হয়, তা অপরিবর্তিত থাকবে।
"বিদ্যুতের বর্তমান স্ল্যাব কাঠামোতে কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হবে না। এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাবটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ০-২০০ ইউনিটের একটি নতুন স্ল্যাব করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে হঠাৎ স্ল্যাব পরিবর্তন করলে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়বেন। তাই সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামোই বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।"
গণশুনানিতে বিইআরসি-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার প্রতিনিধি ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। এই সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।