
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মিরপুরের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতাদের অভিযোগ, ফুটপাত ও অনলাইন মার্কেটে কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ায় মূল শপিংমলগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার নান্নু মার্কেট, আলম মার্কেট ও মোহাম্মাদিয়া মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। ফলে বিক্রেতারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। পোশাক, জুতা, গহনা, প্রসাধনী ও শিশুদের খেলনার দোকান থাকলেও বেচাকেনা ছিল সীমিত।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের শেষ শুক্রবার হওয়া সত্ত্বেও বাজারে প্রত্যাশিত ভিড় নেই। আগত ক্রেতাদের মধ্যে নারী ও তরুণীরা মূলত শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে পুরুষদের কেনাকাটা তুলনামূলকভাবে কম।
মোহাম্মাদিয়া মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী শাওন আলম বলেন, ‘বেচাকেনা একদম ডাউন। এ বাজারে আমাদের তিনটা দোকান। সবগুলোতেই বিক্রির অবস্থা ভালো না। ঈদের আগে শেষ শুক্রবার, অথচ সকাল-বিকেল কোনো ক্রেতা নেই।’
নান্নু মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা আসাদুল ইসলাম বলেন, অনেক গার্মেন্টসসহ শিল্পকারখানায় এখনো ঈদের বেতন হয়নি। মানুষের হাতে টাকা না থাকায় তারা মন খুলে কেনাকাটা করতে পারছেন না।
লামিয়া ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী মোস্তফা বলেন, ‘বেচাকেনা কম এখন। সামান্য লাভ রেখে জামা বিক্রি করছি। ফুটপাত ও অনলাইনে বিক্রি ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় মার্কেটে ক্রেতা কমে গেছে। এছাড়া, কোরবানির পশু কিনতেই মানুষের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়। তাই পোশাক বা জুতা কেনাকাটায় আগ্রহ কম।’
ক্রেতাদের মধ্যে কেউ কেউ সীমিত বাজেটে কেনাকাটা করছেন বলে জানান। মুনা নামের এক ক্রেতা বলেন, তিনি মায়ের সঙ্গে এসে একটি ফ্রক কিনেছেন। অন্যদিকে পোশাকশ্রমিক সোনিয়া বেগম জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও পরিবারের জন্য কিছু কেনার চেষ্টা করছেন।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, শেষ মুহূর্তে বেতন-বোনাস পাওয়া শুরু হলে কেনাকাটা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে অনলাইন ও ফুটপাতের বিক্রি এবং কোরবানির প্রস্তুতির খরচ বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে তারা জানান।