
জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের মাধ্যমে বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাব অনুযায়ী এসব দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক বসতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) এই প্রস্তাব দেয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫ দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, এটি সেকশন ৩০১-এর আওতায় পরিচালিত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা তদন্তের অংশ। নতুন এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি পুনর্গঠনের ধারাবাহিক পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।’
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট পণ্য যেমন জ্বালানি, ওষুধ, কফি, নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য, বিরল খনিজ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হতে পারে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই এ বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিভিন্ন দেশের অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে।