
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় নিয়োজিত সব প্রশাসককে প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনা করবে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসক প্রত্যাহারের পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবিড় তদারকি অব্যাহত থাকবে।
গত বছরের নভেম্বরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ৩০ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সেই কার্যক্রম। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকেও প্রশাসক সরিয়ে নেওয়া হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার গত ১৬ জুলাই তিন বছরের জন্য দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর যোগদানের পরই ব্যাংক থেকে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ব্যাংকটিতে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদও গঠন করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব পাঁচ ব্যাংকসহ মোট ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি ছিল এস আলমের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নজরুল ইসলাম মজুমদারের কর্তৃত্বে।
আগের সরকারের সময়ে বড় অঙ্কের জালিয়াতির অভিযোগ ও অনিয়মের কারণে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। পাশাপাশি মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছিল ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের দেওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের জমা রয়েছে মোট এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই খেলাপি।
দেশজুড়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ রয়েছে।