
ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড’ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কার্ডের ব্যবহার, সেবামূল্য, গ্রাহক সুরক্ষা, নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের প্রসার, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই নীতিমালাটি জারি করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে শরিয়াহবিরোধী বা বেআইনি কোনো পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে না। এর মধ্যে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা কোম্পানি, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসসংক্রান্ত ব্যবসা রয়েছে।
নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখতে ব্যাংকগুলোকে সিস্টেম পর্যায়ে ‘মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড’ ব্লক করে রাখতে হবে। কোনো গ্রাহক বেআইনি লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ব্যাংক ‘উজরহ’ বা সেবামূল্য নিতে পারবে। কার্ড ইস্যু, নবায়ন, প্রতিস্থাপন, নেটওয়ার্ক সুবিধা ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য এ মাশুল নেওয়া যাবে। তবে গ্রাহকের বকেয়া, ঋণসীমা বা বিল পরিশোধে বিলম্বের ওপর ভিত্তি করে সেবামূল্য পরিবর্তন করা যাবে না।
গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেও বিলম্ব জরিমানা ব্যাংক নিজস্ব আয় হিসেবে নিতে পারবে না। চুক্তির সময় গ্রাহক নির্দিষ্ট অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন। ওই অর্থ ব্যাংকের মূল আয়ের বাইরে পৃথক দাতব্য হিসাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে তা দান করতে হবে।
গ্রাহক সুরক্ষায় কার্ড চালুর আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কার্ডের তথ্য গোপন রাখার পাশাপাশি ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া কার্ড ব্লক করার অনুরোধ পাওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের অর্থ গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের ভিত্তি হবে ‘কর্জ হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ এবং ‘উজরহ’ বা সেবামূল্য। প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো গ্রাহকের ঋণ থেকে ব্যাংকের আয়ের সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে গ্রাহক যাতে তার আর্থিক সামর্থ্যের অতিরিক্ত ব্যয় না করেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধিত যেকোনো ইসলামি ব্যাংক অথবা প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো বা শাখা এ ধরনের কার্ড ইস্যু করতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।