
একসময় নকলের জন্য কাগজের চিরকুট বা মোবাইল ফোনই ছিল সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। এখন সেই জায়গা দখল করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) স্মার্ট চশমা। সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইস দিয়ে প্রশ্ন স্ক্যান করে মুহূর্তেই এআই থেকে উত্তর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে এমন ঘটনা ধরা পড়েছে, যা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরীক্ষায় নকলের কৌশল দিন দিন আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসমৃদ্ধ স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের ঘটনা সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে শিক্ষা প্রশাসন নতুন করে সতর্ক হতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের টোয়িক পরীক্ষায় দুই পরীক্ষার্থী এআই স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে নকলের চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েন। দেশটিতে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতির এটিই প্রথম শনাক্ত হওয়া ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই স্মার্ট চশমাগুলোতে ক্ষুদ্র ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকে। পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই ক্যামেরা প্রশ্ন ধারণ করতে পারে। এরপর এআই তা বিশ্লেষণ করে উত্তর চশমার লেন্সে প্রদর্শন করতে পারে অথবা ক্ষুদ্র স্পিকারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে জানাতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটি এতটাই গোপনে সম্পন্ন হয় যে বাইরে থেকে এটি সাধারণ চশমা বলেই মনে হয়।
ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষার হলে এআই স্মার্ট চশমা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগাম সতর্ক করাসহ পরীক্ষা তদারকির নিয়মও আরও কঠোর করা হচ্ছে।
শুধু দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করেছে যে স্মার্ট চশমা, অদৃশ্য ইয়ারপিসসহ নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থাও নতুনভাবে সাজাতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে শুধু মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করলেই পরীক্ষায় নকল ঠেকানো সম্ভব হবে না। বরং এআইনির্ভর পরিধানযোগ্য ডিভাইস শনাক্তের ব্যবস্থা, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি এবং পরীক্ষার ধরনেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। একই সঙ্গে মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক মূল্যায়ন বাড়ানোর পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।