
দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে মূল পাঠক্রম অক্ষুণ্ন রেখে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ২৫ হাজার কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি, যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ২৪৬। পাশাপাশি ৩২ হাজার ৬৬৩টি কিন্ডারগার্টেনে অধ্যয়ন করছে ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ শিক্ষার্থী।
তিনি আরও জানান, দেশে ৯ হাজার ২৯৫টি সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১৫ লাখ এবং ৭ হাজার ৫২৮টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। হাফিজিয়া ও নূরানি মাদ্রাসাগুলোও সাধারণভাবে কওমি ধারার অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য পৃথক বা অভিন্ন কোনো জাতীয় নীতিমালা নেই। এ কারণে মূল ধর্মীয় পাঠক্রম অপরিবর্তিত রেখে শিক্ষার্থীদের আধুনিক দক্ষতা বাড়াতে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
তিনি জানান, মূলধারার প্রাথমিক শিক্ষার অপরিহার্য বিষয়গুলো সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদে শিক্ষামন্ত্রী যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, তা সরকার-নিয়ন্ত্রিত নয় এমন কওমি মাদ্রাসাগুলোর আনুমানিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।