
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বোর্ডটির আওতাধীন রংপুর বিভাগের আট জেলার ১৮টি বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি বিদ্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের।
শূন্য পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রাম। জেলার চারটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া রংপুর, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধায় দুটি করে এবং দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে একটি করে বিদ্যালয় রয়েছে এই তালিকায়।
শূন্য পাস করা বিদ্যালয়গুলো হলো—রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাসিপুর উচ্চ বিদ্যালয়; গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাগজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ও শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে।
এ ছাড়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সদরের আকছা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভার দিঘী উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তওয়ারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাটুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে তালিকায়।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বোদা সরদারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে।
একই সঙ্গে ১৮টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের পাঠদানের মান, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
তবে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার সামগ্রিকভাবেও এসএসসির ফলাফলে অবনতি হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বোর্ডটির পাসের হার ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমেছে। পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে এবং বেড়েছে শূন্য পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। ফলে ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল আরও ২ হাজার ৯৪১ জন।
ফলাফল কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ফলাফল কেন কমেছে, এর কারণ জানতে হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা না করে এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা আগে ফলাফল পর্যালোচনা করব। মোটামুটি এবার সব শিক্ষা বোর্ডেই ফলাফল কিছুটা কমেছে।