
রান্নাঘরে প্রেসার কুকারের ব্যবহার এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেখা যায়। বিশেষ করে মাংস, ডাল কিংবা শক্ত খাবার দ্রুত রান্না করতে এটি খুবই কার্যকর। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রেসার কুকারে আস্ত তেজপাতা ব্যবহার করলে নাকি বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। শুনতে অতিরঞ্জিত মনে হলেও এর পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।
প্রেসার কুকারের ভেতরে পানি ফুটে বাষ্প তৈরি হয় এবং সেই বাষ্পের চাপেই খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কুকারের ঢাকনায় একটি ছোট ভেন্ট বা ছিদ্র থাকে, যেখান দিয়ে বাষ্প বেরিয়ে যায়। সমস্যা দেখা দিতে পারে যদি আস্ত তেজপাতা ভেসে উঠে ওই ভেন্টের মুখে গিয়ে আটকে যায়।
তেজপাতা হালকা ও চওড়া হওয়ায় ফুটন্ত পানির বুদবুদ এবং বাষ্পের চাপে ওপরে উঠে আসতে পারে। যদি এটি ভেন্টের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাষ্প বের হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে কুকারের ভেতরে চাপ দ্রুত বাড়তে থাকে।
আধুনিক প্রেসার কুকারে অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য সেফটি ভালভ থাকে। নির্ধারিত সীমার বেশি চাপ তৈরি হলে এই ভালভ খুলে বা গলে অতিরিক্ত বাষ্প বের করে দেয়। তবে সেফটি ভালভ পুরোনো, ত্রুটিপূর্ণ বা অকার্যকর হলে কিংবা খুব অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
প্রেসার কুকার প্রস্তুতকারী বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তাদের ব্যবহারবিধিতে বড় আকারের পাতা বা অতিরিক্ত ফেনা সৃষ্টি করে এমন উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলেছে। কারণ এসব উপাদান ভেন্ট পাইপ আটকে দিতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে তেজপাতা ব্যবহার করা যাবে না। রান্নায় স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে তেজপাতা নিরাপদেই ব্যবহার করা যায়, যদি কয়েকটি সতর্কতা মেনে চলা হয়।
আস্ত তেজপাতার বদলে সেটিকে মাঝখান থেকে ছিঁড়ে বা ছোট টুকরো করে ব্যবহার করা ভালো। তেজপাতা মাংস, আলু বা অন্য ভারী উপাদানের নিচে রাখলে সেটি সহজে ভেসে ওপরে ওঠে না। যেসব খাবারে বেশি ফেনা তৈরি হয়, সেখানে অল্প পরিমাণ তেল বা মাখন ব্যবহার করলে ফেনা কম হতে পারে। পাশাপাশি কখনোই প্রেসার কুকার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভর্তি করা উচিত নয়, যাতে বাষ্প চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেজপাতার কারণে প্রেসার কুকার বিস্ফোরণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে ভেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বৈজ্ঞানিকভাবে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই রান্নার সময় সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি সহজেই এড়ানো সম্ভব।