
বর্ষার শেষভাগ পেরিয়ে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি। ভোরের দিকে বাতাসে বাড়ছে শীতলতার অনুভূতি, রাতের শেষ প্রহরে নামছে হালকা কুয়াশার আভাস। দিনভর গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর বাতাসে টের পাওয়া যাচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের জনপদে যেন আগাম জানান দিচ্ছে শীতের আগমন।
রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় ভোরের পরিবেশে পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নদী, খাল-বিল ও খোলা মাঠসংলগ্ন এলাকায় ভোরের বাতাসে শীতের আমেজ বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে এখনই শীত নেমে এসেছে বলা না গেলেও ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার ধরনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।
উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে শীতের আগমন বরাবরই আলাদা অনুভূতির। কুয়াশায় ঢাকা ভোর, খেজুরের রস সংগ্রহ, পিঠাপুলির আয়োজন, মাঠে মাঠে শীতকালীন সবজির আবাদ—সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রায় শীত নিয়ে আসে ভিন্ন আবহ।
ইতোমধ্যে অনেক কৃষক শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। জমি প্রস্তুত করা, বীজ সংগ্রহ ও চারা তৈরির কাজেও ব্যস্ততা বাড়ছে। শীত যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, টমেটোসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজির আবাদ।
অন্যদিকে, শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগের আশঙ্কাও বাড়ে। বিশেষ করে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জন্য শীতের তীব্রতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতি বছর শীত মৌসুমে এসব এলাকায় ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিশু ও বয়স্করা। তাই শীত তীব্র হওয়ার আগেই দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।
তবে এখনো উত্তরবঙ্গে শীতের তীব্রতা শুরু হয়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বর্তমানে বৃষ্টির সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে প্রকৃত শীতের অনুভূতি পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
তবু ভোরের নির্মল বাতাস, মাঠের ওপর জমতে থাকা শিশির আর রাতের বাড়তে থাকা শীতলতা উত্তরবঙ্গের মানুষের মনে শীতের সেই চিরচেনা অনুভূতির জানান দিতে শুরু করেছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনই যেন বলে দিচ্ছে—দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।