বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস আজ

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব শিশু ক্যান্সার দিবস। শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০২ সালে চাইল্ড ক্যান্সার ইন্টারন্যাশনাল (সিসিআই) দিবসটি পালন করে আসছে। সারা বিশ্বে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যান্সার। প্রতিবছর ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।শিশুদের সাধারণত থ্যালাসেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বেশি হয়। এ ছাড়া লসিকাগ্রন্থি, কিডনি এবং চোখের ক্যান্সারেও শিশুরা আক্রান্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি— বেশির ভাগ শিশুর ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য। শনাক্ত করা গেলে ও উন্নত চিকিৎসা পেলে ৭০ শতাংশ রোগী সেরে ওঠে। কিন্তু মাত্র ২০ শতাংশ রোগী উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ না থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীনগত কারণ, ভাইরাস, খাদ্যে ভেজাল, ক্যামিকেলস, পরিবেশগত সমস্যায় শিশুদের ক্যান্সার হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এই রোগ শনাক্ত করা গেলে বেশিরভাগ শিশুরই ভালো হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এই অবস্থায় শিশুদের ক্যান্সার মোকাবিলায় সবার আগে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক হলেন ডা. নাসির উদ্দীন

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। এর আগে, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের পারসোনেল-১ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বা স্বাস্থ্য সার্ভিসের বর্ণিত চিকিৎসককে তার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হলো। পদায়ন হওয়া কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন (৪১৩৬৫)। তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি বা পদায়নকৃত কর্মকর্তা আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় পরবর্তী কর্ম দিবসে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি (Stand release) মর্মে গণ্য হবেন।অবমুক্তির সময় তিনি বর্তমান কর্মস্থল হতে ছাড়পত্র গ্রহণ করবেন এবং এইচআরএম ডাটাবেজ থেকে মুভ আউট হবেন এবং যোগদানের পর ন্যস্তকৃত বিভাগে বা কর্মস্থলে মুভ ইন হবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে, বললেন ম্যাটস শিক্ষার্থীরা

চার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকার শাহবাগের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবারও (১০ ফেব্রুয়ারি) অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা। সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম সোমবার সকালে সমকালকে এ তথ্য জানান। গতকাল রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) শূন্য পদে নিয়োগসহ চার দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের সচিবালয়ে অভিমুখী লংমার্চে লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ। এতে নারী শিক্ষার্থীসহ ১১ জন আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোববার বিকেলে শাহবাগ থেকে সচিবালয় অভিমুখে রওনা দেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা ভবনের সামনে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে আন্দোলনকারীরা কদম ফোয়ারা ও মৎস্য ভবন হয়ে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের দিকে চলে যান। শিক্ষার্থীদের চার দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে শূন্য পদে নিয়োগ ও নতুন পদ সৃষ্টি; প্রতিষ্ঠানের নাম ও কোর্স কারিকুলামের সংশোধন; ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা এবং স্বতন্ত্র শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা। গত জানুয়ারিতেও ম্যাটস শিক্ষার্থীরা এসব দাবিতে কারওয়ান বাজার ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। দেশে ১৬টি সরকারি ও ৫১টি বেসরকারি অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল আছে। এসব ট্রেনিং স্কুল থেকে তিন বছরের কোর্স সম্পন্ন করলে শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ডিগ্রি পান। তারা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ হিসেবে চাকরির সুযোগ পান।

উপদেষ্টার ‘আশ্বাস’, ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

কাল সোমবার (১০ জানুয়ারি) উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তবে সাত দিনের বিরতির পর ফের আশ্বাসের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘আশ্বাস নয় ঘোষণা চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে আন্দোলনরত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও ছাত্র প্রতিনিধি মুহাম্মদ তুহিন ফারাবী। এ সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অনেকে ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগান থামানোর আহ্বান জানান সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা। এরপর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন তুহিন ফারাবী। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আমাকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পাঠিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আপনাদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। এমনকি আগামীকালের মধ্যে দশম গ্রেডে নিয়োগের সার্কুলার দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এক দিনের জন্য আপনারা ধৈর্য ধরবেন। আশা করি, এবার আপনাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হবে না।’ তুহিন ফারাবী বলেন, ‘আমিও একজন শিক্ষার্থী। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো লোক নই। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের অনেক অত্যাচার-নির্যাতন শিকার হতে হয়েছে। এই শাহবাগে আন্দোলন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতে আমাকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি আমাকে পিটিয়ে ছাদ থেকেও ফেলে দিয়েছিল। সুতরাং আমরা কখনোই বৈষম্য জিইয়ে রাখার পক্ষে নই। আপনারা দাবি পূরণ করেই ঘরে ফিরুন, এটা আমিও চাই। তবে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্বৈরাচারের দোসরদের পরিস্থিতি ঘোলা করার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার এ প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘সড়ক ছেড়ে আপনাদের উঠে যেতে আমি বলব না। শুধু বলব শাহবাগের এই মোড় রোগীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা মেডিকেল, বিএসএমএমইউ, বারডেমসহ অসংখ্য হাসপাতালের রোগী এ মোড় দিয়ে যাতায়াত করেন। সুতরাং, রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টিও আপনাদের মাথায় রাখতে হবে।’

চার দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধ

উচ্চ শিক্ষার সুযোগ, অনতিবিলম্বে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শূন্য পদে নিয়োগ প্রদানসহ চার দফা দাবিতে ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। দাবি মানার ঘোষণা না পেলে শাহবাগ মোড় ছাড়বেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বলে জানা গেছে। এর আগে তারা ফার্মগেট এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে তারা শাহবাগের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আহমাদুল্লাহ মানসুর বলেন, ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জুলাই বিপ্লব সংগঠিত হলেও ম্যাটস শিক্ষার্থীর দীর্ঘ দিনের বৈষম্যের অবসান হয়নি। সব বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যে গত ২২ জানুয়ারি চার দফা দাবিতে আমরা ঢাকার শাহবাগে গণজমায়েত করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ৭ কার্যদিবসের মধ্যে দাবি পূরণের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ৭ দিন পার হলেও তার দৃশ্যমান কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো এ ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, সেহেতু আমরা এ কর্মসূচি নিয়েছি। আজকের এই মুভমেন্টের সব দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদকে নিতে হবে।’ জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে ১৬টি সরকারি ম্যাটস ও প্রায় ২০০টি বেসরকারি ম্যাটস ডিপ্লোমা মেডিকেল ডিগ্রি (ডিএমএ) কোর্স পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২২ এবং বিএমডিসির সর্বশেষ তথ্যমতে বাংলাদেশে বর্তমানে ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার এবং বিএমডিসি নিবন্ধিত ডিএমএফ’র সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন ডিপ্লোমা চিকিৎসক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন। ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমানে ডিপ্লোমা মেডিকেল কোর্স সম্পূর্ণ করে প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ জনবল কর্মসংস্থানহীন বেকার হয়ে পড়েছেন। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে, নিয়োগবিধি সংশোধনের নামে তালবাহানা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে শূন্য পদ রয়েছে ২৫০০টি। এতে করে একদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ম্যাটস থেকে পাশকৃত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

বিএসএমএমইউয়ে নতুন নামের ব্যানার, বাদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আগের নামের বদলে নতুন নামের ব্যানার টানানো হয়েছে। ব্যানারে এর নাম দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। শনিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ক্যাম্পাসে এসে বিভিন্ন ব্লকের সামনে এসব ব্যানার দেখতে পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিএসএমএমইউয়ে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নামের এই ব্যানার টানিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব ডাক্তার মো. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব বলেন, ‘নতুন নামের ব্যানার আজ সকালে এসে দেখতে পেলাম। তারা যে নাম দিয়েছেন, এটাসহ আরও কিছু নাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনায় রয়েছে। নাম পরিবর্তন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। আগামী ২-৩ দিনের কর্ম দিবসের মধ্যে এ নিয়ে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাক্তার একে আজাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেকগুলো নাম আমাদের প্রস্তাবনায় রয়েছে। ছাত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অচিরেই নতুন প্রজ্ঞাপন আসবে।’ এর আগে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধু নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত একদল চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লক ভবনে টানানো সাইনবোর্ড ও পরবর্তী আরও একাধিক স্থান থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম খুলে ফেলেন তারা।

বিশ্ব ক্যানসার দিবস আজ

বিশ্ব ক্যানসার দিবস আজ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি)। প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ইউনাইটেড বাই ইউনিক’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, রোগের মধ্যে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ ক্যানসার। প্রতি বছর এতে মারা যায় প্রায় এক কোটি মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, সচেতনতা ও সুষ্ঠু জীবনযাত্রা দিয়ে একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে ঠেকিয়ে রাখা যায় এ মারণরোগ। তাই, ক্যানসার নিয়ে আশঙ্কার বদলে সচেতনতার প্রসার বেশি জরুরি। আর সেই কারণেই, প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব ক্যানসার দিবস। চিকিৎসকরা মনে করেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে এবং সেক্ষেত্রে চিকিৎসা সহজ হয়। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রতি লাখে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০৬ জন। এছাড়াও প্রতি বছর নতুন করে ক্যানসার আক্রান্ত হচ্ছেন ৫৩ জন। মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশই ক্যানসারের রোগী।বিশ্ব ক্যানসার দিবস পালন শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে। ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ওয়ার্ল্ড সামিট এগেইনস্ট ক্যানসার’-এর মঞ্চ থেকে এ প্রচেষ্টা শুরু হয়।

শীতকালে যেসব অ্যালার্জি বাড়ে

শীতে অ্যালার্জিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শীতে ত্বকের শুষ্কভাব চুলকানি, ত্বক লালচে হয়ে ফুলে যাওয়া বা ফুসকুড়ির সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তিদের জন্য শীত-বর্ষা দুই মৌসুমই সবচেয়ে খারাপ। এ সময় ত্বকের অ্যালার্জি বা শ্বাস প্রশ্বাসের অ্যালার্জি বেড়ে যায়। শীতে ধুলাবালি, ঠান্ডা আবহাওয়ারি কারণে কোল্ড অ্যালার্জিসহ চর্মরোগও বেড়ে যায়। এ সময় অ্যালর্জির প্রভাবে চোখও সংক্রমিত হতে পারে। যেমন- কনজেক্টিভাইটিস, চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি অ্যালার্জেন সংক্রমণের কারণে হয়। জেনে নিন শীতে কী ধরনের অ্যালার্জি হতে পারে- ত্বকের অ্যালার্জি শীতে ত্বকের অ্যালার্জি বেড়ে যায়। যেখানে দূষণের মাত্রা খুব বেশি, সেখানে চলাফেরার মাধ্যমে রোগীর শরীরে অ্যালার্জি বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া সস্তা সিনথেটিক পদার্থ দিয়ে তৈরি শীত পোশাক বা গ্লাভস ত্বকের সংস্পর্শে আসার কারণেও ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়িয়ে তোলে। ফলে শরীরের বিভিন্ন ভাঁজ যেমন- হাঁটু বা কনুইতে গিয়ে পৌঁছায় বিভিন্ন ছত্রাক। এর ফলে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। এছাড়া পোষা প্রাণী, পরাগ বা ধূলিকণার সংস্পর্ষে আসলে হিস্টামিনস নামক রাসায়নিক উপাদানের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে অ্যালার্জির ট্রিগার করে থাকে। এর থেকে বাঁচতে এজন্যই বিশেষজ্ঞরা অ্যান্টি হিস্টামাইন জাতীয় ওষুধ মৌসুমী অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহার করে। ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, তরল, অনুনাসিক স্প্রে ও আইড্রপসসহ বিভিন্নভাবে পাওয়া যায় এটি। হাইপারপিগমেন্টেশন শীতে আরও একটি সাধারণ এলার্জি হলো হাইপারপিগমেন্টেশন। যা ত্বকে বিশেষ করে মুখে গাঢ় প্যাঁচ সৃষ্টি করে। সাধারণত ত্বকের মেলানোসাইট (মেলানিন উত্পাদনকারী কোষ) যখন সূর্যের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসে, তখন হাইপারপিগমেন্টেশনের সৃষ্টি হয়। শীতে যেহেতু সব সময় সূর্যের দেখা পাওয়া যায় না, তাই যখন হঠাৎ সূর্যের সংস্পর্শে যাওয়া হয় তখন এই অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। ব্রণ ও একজিমা শীতে ব্রণ ও একজিমার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর্দ্রতা ও পরিবর্তিত আবহাওয়া ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, ব্রণ ও একজিমা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক চিকিত্সা ও ত্বকের যত্ন নিলে অনেক সময় এগুলো সেরে যায়। তবে বেশি সমস্যা হলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। সূত্র: বোল্ডস্কাই

কোটা আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ সদস্যের দল

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা আট সদস্যের একটি দল জুলাই আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসা দিচ্ছে। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা আট সদস্যের একটি দল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নিটোরে ভর্তিকৃত ৯৬ জন আহতের তারা চিকিৎসা দিচ্ছেন।’ নিটোরের পরিচালক ডাক্তার আবুল কেনান বলেন, ‘আহতরা বিদেশি চিকিৎসকদের সেবা পেয়ে আনন্দিত। এছাড়া, তিনজন চিকিৎসক ও তিনজন ফিজিওথেরাপিস্ট এ বিশেষজ্ঞ টিমকে সহায়তা করছেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ দল নিটোরে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা রয়েছে।’

এমবিবিএস ভর্তি: প্রমাণ দেখাতে আসেননি মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৪৯ শিক্ষার্থী

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তিপরীক্ষার ৬০ হাজার ৯৫ জন উত্তীর্ণের ১৯৩ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটার। এরমধ্যে কোটার পক্ষে প্রমাণ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাকে সাড়া দেননি ৪৯ শিক্ষার্থী। ধারণা করা হচ্ছে, এদের যৌক্তিক প্রমাণ নেই। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার রুবীনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার (বীরাঙ্গনা) সন্তান কোটায় আবেদনকারীদের প্রমাণসহ উপস্থিত হতে বলা হয়। ৪৯ জন এতে উপস্থিত হননি। এদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তারা কোটার দাবিদার নন বলে গণ্য হবেন।’ এবারের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মোট আবেদন করেন এক লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৫ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। গত রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৬৮৬ জনের মধ্যে পাস করেন ১৯৩ জন। তাদের জন্য বরাদ্দ আসন ৫ শতাংশ বা ২৬৯টি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৯৪৬ জনের মধ্যে ২৮২ জন পাস করেছেন। তাদের জন্য ৩১টি আসন বরাদ্দ। সমতলের উপজাতি ২৫৫ জনের মধ্যে ৬৬ জন পাস করেছেন। তাদের জন্য আটটি আসন বরাদ্দ। গত ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দেন, সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এক শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য এক শতাংশ কোটা থাকবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০২৫ সালের মেডিকেল কলেজে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করে। এর ৯.১.১ ধারায় বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ২৩ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় ৫ শতাংশ আসন মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মশাবাহিত এ রোগে ১০ জনের মৃত্যু হলো। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার ( ২৭ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন। তাতে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮৮ জনে। সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় আট জন, ঢাকা বিভাগে নয় জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুই জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ছয় জন, খুলনা বিভাগে দুই জন, রাজশাহী বিভাগে চার জন ও বরিশাল বিভাগে তিন জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৬২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ৮৫ জন, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছেন ৭৭ জন।

চিকিৎসার জন্য ভারতের বিকল্প হতে পারে চীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ভারত ভিসা কম দেওয়ায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য বিকল্প দেশ হতে পারে চীন।’ রোববার (২৬ জানুয়ারি) চীন সফর শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য বিকল্প হতে পারে চীনের কুনমিং। সেখানে চিকিৎসা খরচ ও যাতায়াত খরচ তুলনামূলক কম। এ জন্য ভিসা ফি কমানোর কথা বলা হয়েছে চীনকে।’ এত দিন চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের সহজ গন্তব্য ছিল ভারত। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভারতের পক্ষ থেকে তাদের দেশে বাংলাদেশিদের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য অসুস্থ হয়েও ভিসা জটিলতার কারণে ভারত যেতে পারছেন না বাংলাদেশিরা। যদিও বৃহৎ অর্থনৈতিক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভারতীয়রা। গত কয়েক দিনের চীন সফর শেষে তাইতো পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশের মানুষদের চিকিৎসার জন্য চীনে যাবার বিষয়ে ইঙ্গিত করলেন। তিনি বলেন, ‘বড় যে হাসপাতালটি করে দিতে চায় চীন, তার স্থান নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা বলেছি, আমাদের হাতে পূর্বাচলে সুন্দর জায়গা রয়েছে। সেখানে আমরা জায়গা দেয়ার কথা তাদের বলেছি।’ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,‘ চীনের সঙ্গে আলোচনায় ঋণের সুদ হার কমানো এবং পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে তাদের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। তারা বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের বিষয়ে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা সই হয়েছে। তবে, তিস্তার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

শাহবাগ সড়ক অবরোধ করে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চার দাবি নিয়ে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেইনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ‘সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে সেখানে অবস্থান নেন তারা। এর আগে কারওয়ানবাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে পৌঁছান শিক্ষার্থীরা। আর তাদের অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড়ের চারদিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে- ১০ম গ্রেডে শূন্যপদে নিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নতুন পদ সৃষ্টি, কোর্স কারিকুলাম সংশোধন ও ইন্টার্নশিপ ভাতা প্রদান, প্রস্তাবিত এলাইড হেলথ প্রফেশনাল বোর্ড বাতিল করে স্বতন্ত্র মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিএমঅ্যান্ডডিসি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘দীর্ঘ তিন মাস একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তাদের দাবিগুলো পূরণ করা হয়নি। এ কারণে সড়কে নেমে আন্দোলন করছেন তারা।’ এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা চলছে।’

মেডিকেল ভর্তিতে থাকছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, যাচাই-বাছাই ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি কার্যক্রমে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিদ্যমান থাকছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে, এ কোটা শুধু মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য হবে, তাদের নাতি-নাতনি বা অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য হবে না। এমনকি আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উত্তীর্ণদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মেডিকেল কলেজের ২০২৪-২৫ সালের এমবিবিএস ভর্তি কার্যক্রমে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিদ্যমান বিধি অনুসারে শুধু মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য হবে, তাদের নাতি-নাতনি বা অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য হবে না। এ কোটার অধীনে সংরক্ষিত ২৬৯টি আসনের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৯৩ জন প্রার্থী পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ৭৬টি আসন ইতোমধ্যে মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হয়েছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৯৩ জনের পিতা/মাতার মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র, নিজের জন্ম নিবন্ধন সনদসহ যাবতীয় প্রমাণাদি ও একাডেমিক সার্টিফিকেট নিয়ে আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরাতন ভবনের দোতলায় অবস্থিত মেডিকেল এডুকেশন শাখায় উপস্থিত হয়ে যাচাই-বাছাই করাতে হবে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভর্তি বাতিল হবে এবং মেধা তালিকা থেকে সেই শূন্য আসন পূরণ করা হবে।’ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই ১৯৩ জনের ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং অবশিষ্টদের ভর্তিসহ মেডিকেল কলেজের অন্যান্য কার্যক্রম যথারীতি চালু থাকবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মেডিকেলে কোটায় উত্তীর্ণ ১৯৩ জনের ভর্তি স্থগিত

মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় কোটায় উত্তীর্ণ ১৯৩ জনের ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (২০ জনুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ফলাফল স্থগিত করা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার নাজমুল হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পাস করা ১৯৩ জনের যাচাই-বাছাই ২৯ জানুয়ারির মধ্যে, সে পর্যন্ত তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।’ প্রসঙ্গত, রোববার (১৯ জানুয়ারি) ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গেল শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ৩৭ টি সরকারি মেডিকেল কলেজের ৫ হাজার ৩৮০টি আসনে এবং ৬৭টি অনুমোদিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৬ হাজার ২৯৩টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ‌‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার শর্তানুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও এসএসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ থেকে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে অর্জিত স্কোরের ভিত্তিতে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী ৫ হাজার ৩৭২ জন পরীক্ষার্থীদের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৫টি আবেদন জমা পড়ে। তার মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভর্তি পরীক্ষার পাশ নম্বর ৪০। অংশগ্রহণকারী ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৬০ হাজার ৯৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ বছর পাশের হার ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ২২ হাাজর ১৫৯ জন যা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ৩৬ দশমকি ৮৭ শতাংশ। উত্তীর্ণ মেয়ে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭ হাজার ৯৩৬ জন; যা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ৬৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ৯০ দশমিক ৭৫। সরকারি মেডিকেল কলেজে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা আগামী ২-৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির অনলাইন আবেদন গ্রহণের বিজ্ঞপ্তি আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে।

মেডিকেল ভর্তিতে কোটা থাকবে কি না সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় কোটা থাকবে কি না এ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়।’ সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সায়েদুর রহমান এ কথা বলেন। এ সময় সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, কোটা বাতিলের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মূল পরিবর্তন হলো নাতি-নাতনির পরিবর্তে, পরবর্তী প্রজন্মের বদলে সন্তান বলা হয়েছে। অতএব, কোটার বিষয়টিতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাও প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে। তারপরও এটা স্কুটিনি করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ১৯৩ জনের (যারা কোটায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন) মধ্যে খুবই আনইউজুয়াল হবে যাদের (বাবার) বয়স ৬৭-৬৮ বছর এবং যাদের সন্তান থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। সেখানে যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে তাহলে সেটা দেখা হবে। এমবিবিএস পরীক্ষায় মূল কোটা থাকবে কি থাকবে না এই নীতিগত সিদ্ধান্তটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, এটি রাষ্ট্রের। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি এটি যাচাই করা হবে।’

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, মেয়েরা এগিয়ে এবারও

২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে এবারও মেয়েরা ছেলেদের থেকে এগিয়ে রয়েছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ৩৭ টি সরকারি মেডিকেল কলেজের ৫ হাজার ৩৮০টি আসনে এবং ৬৭টি অনুমোদিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৬ হাজার ২৯৩টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।’ ‌‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার শর্তানুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও এসএসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ থেকে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে অর্জিত স্কোরের ভিত্তিতে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী ৫ হাজার ৩৭২ জন পরীক্ষার্থীদের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চল ব্যতিত দেশের সমতল অঞ্চলের উপজাতীয় কোটার (কোড নম্বর ৭৭) শিক্ষার্থীদের তালিকা কোটার স্বপক্ষে সনদ/প্রমাণকগুলো স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক যাচাইয়ান্তে পরবর্তি প্রকাশ করা হবে। এ বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৫টি আবেদন জমা পড়ে। তার মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভর্তি পরীক্ষার পাশ নম্বর ৪০। অংশগ্রহণকারী ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৬০ হাজার ৯৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এ বছর পাশের হার ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ২২ হাাজর ১৫৯ জন যা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ৩৬ দশমকি ৮৭ শতাংশ। উত্তীর্ণ মেয়ে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭ হাজার ৯৩৬ জন; যা উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীর ৬৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বর ৯০ দশমিক ৭৫। সরকারি মেডিকেল কলেজে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়সীমা আগামী ২-৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির অনলাইন আবেদন গ্রহণের বিজ্ঞপ্তি আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পুতুলককে সরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুদকের চিঠি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুর্নীতির মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এ নিয়ে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ডব্লিউএইচও’-এর আঞ্চলিক পরিচালক বানাতে তিনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতাকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন। এ অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য যাচাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

ডেটাস্কেপ গ্রুপের সাথে চুক্তি করল ডেন্টাল ওয়ান

ডেটাস্কেপ গ্রুপের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে ডেন্টাল ওয়ান। এই চুক্তির আওতায় ডেটাস্কেপ গ্রুপের সব কর্মী বিশেষ ছাড়ে ডেন্টাল চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। ডেন্টাল ওয়ান তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, পেশাদার চিকিৎসক দল ও সাশ্রয়ী সেবার জন্য পরিচিত। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ডেটাস্কেপ গ্রুপের ব্র্যান্ডিং অ্যান্ড এক্সটার্নাল এনগেজমেন্ট ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন, ডেন্টাল ওয়ানের চিফ কনসালট্যান্ট ডাক্তার মোছা. উম্মে হানিয়া উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তি উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে এবং ডেটাস্কেপ গ্রুপের কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ডেন্টাল সেবা নিশ্চিত করবে। ডেন্টাল ওয়ানে বিভিন্ন উন্নত সেবা দেয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে দাঁত ফিলিং, স্কেলিং, পলিশিং, টুথ হোয়টেনিং, রুট ক্যানাল, ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, শিশুদের ডেন্টাল কেয়ার এবং অন্যান্য বিশেষায়িত সেবা। মিরপুর ১১’-এর ব্লক এ-তে অবস্থিত এই ক্লিনিক প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মোছা. উম্মে হানিয়া বলেন, ‘ডেটাস্কেপ গ্রুপের সঙ্গে এই চুক্তি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ডেন্টাল সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ‘ডেন্টাল ওয়ান তার সেবার মান ও সাশ্রয়ী সেবার অঙ্গীকার বজায় রেখে ডেটাস্কেপ গ্রুপের কর্মীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ডেন্টাল ওয়ান মিরপুরের শীর্ষস্থানীয় একটি ডেন্টাল ক্লিনিক।

নতুন পরিচালক পেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের (প্রেষণ-১) উপসচিব আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনী) কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমানকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করতে বলা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে।’ জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

শিশুর ভুল চোখে চিকিৎসার অভিযোগে নারী চিকিৎসক গ্রেপ্তার

শিশুর ভুল চোখে চিকিৎসার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত সেই নারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাহমুদ হাসানের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ মাসুদ। তিনি বলেন, ওই নারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ওই নারী চিকিৎসকের নাম ডা. শাহেদারা বেগম। তিনি ধানমন্ডির বাংলাদেশ আই হসপিটালের শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ। এজাহারে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার দেড় বছর বয়সী এক শিশুর চোখে তিনি (চিকিৎসক) ভুল অপারেশন করেছেন। শিশুর বাম চোখে সমস্যা অথচ ওই চিকিৎসক ডান চোখে অপারেশন করেছেন। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, চোখে ময়লা জাতীয় কোনো বস্তুর অস্তিত্ব টের পেয়ে হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় ঘটে বিপত্তি। দেড় বছর বয়সী শিশু ইর্তিজা আরিজ হাসানের বাম চোখের বদলে ডান চোখে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক। পরে দুঃখ প্রকাশ করে আবারও বাম চোখে অস্ত্রোপচার করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং স্ট্র্যাবিসমাস সার্জন ডা. শাহেদারা বেগম।

পুতুলকে ‘হু’ থেকে অপসারণে অনলাইনে চলছে গণস্বাক্ষর, প্রচুর সাড়া

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার কন্যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ‘হু’ থেকে অপসারণের পক্ষে একটি পিটিশন ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ সাইন করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পুতুলকে জরুরি অপসারণের দাবিতে খোলা পিটিশনটিতে। এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্বের বৃহত্তম পিটিশন প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জ ডট ওআরজি-তে পিটিশন ক্যাম্পেইনটি চালু করে মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য কাজ করা মানবাধিকার কর্মীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাক্ট নাও বাংলাদেশ’। পিটিশনের লিংক শেয়ার করে প্ল্যাটফর্মটি ফেসবুকে লিখেছে, দয়া করে স্বাক্ষর করুন ও শেয়ার করুন! মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শাসনব্যবস্থার অধীনে নীতিমালা সমর্থন দেওয়ার কারণে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে হু থেকে অপসারণের দাবিতে আমাদের সাথে যোগ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য নেতৃত্বে সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য আমাদের আবেদনে স্বাক্ষর করুন। পিটিশনের কারণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, ‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে জরুরি পুনর্মূল্যায়ন ও অপসারণের আহ্বান জানাচ্ছি। তার মা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতির প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই অনুরোধ জানানো হচ্ছে। হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, যা হু’র নীতির সাথে স্বার্থের গভীর সংঘাত তৈরি করে।’ পিটিশনের পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহের সময়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর সরকারের সহিংস দমনের ফলে অসংখ্য আহত ও মৃত্যু ঘটে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। পিটিশনে কয়েকটি উদ্বেগ তুলে ধরে বলা হয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মায়ের দমনমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন। এই কর্মকাণ্ডের প্রতি তার সোচ্চার সমর্থন হু’র নিরপেক্ষতা ও মানবতার নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। পিটিশনের লিংক : https://www.change.org/p/urgent-request-for-removal-of-saima-wazed-putul-from-who

ওয়ার্ডেই অ্যানেস্থেশিয়া পুশ, মারা গেলেন দুই রোগী, স্বজনদের বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে পরিবার। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন জেলার কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধূলদিয়া গ্রামের ফালু মিয়ার ছেলে মল্লিক মিয়া (৩০) ও নিকলী উপজেলার দামপাড়া এলাকার আব্দুল কাদের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২২)। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ওই দুই রোগী হার্নিয়া অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। সিনিয়র স্টাফ নার্স নাদিরা তাদের ওটিতে না নিয়ে ওয়ার্ডেই অ্যানেস্থেশিয়া পুশ করেন। এর আধাঘণ্টা পরই তারা মারা যান। এ ঘটনার পর হাসপাতালের সামনের রাস্তা বন্ধ করে স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। এতে হাসপাতালসহ আশপাশের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ প্রসঙ্গে শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হেলিস রঞ্জন সরকার দুইজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই সিনিয়র স্টাফ নার্স নাদিরাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

বাম চোখে সমস্যা, শিশুর ডান চোখ অপারেশন করলেন চিকিৎসক

ঢাকার একটি হসপাতালে বাম চোখে সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয় দেড় বছরের শিশু ইরতিজা। তবে বাম চোখের বদলে ওই শিশুর ডান চোখে অপারেশন করেছেন চিকিৎসক। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ধানমন্ডির আই হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, শিশু ইরতিজাকে মঙ্গলবার বিকেলে চোখের সমস্যার জন্য ধানমন্ডি আই হসপিটালে নেন পরিবারের লোকজন। বাম চোখের মধ্যে ময়লা জাতীয় বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। পরে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে নেওয়া হয় অস্ত্রোপচার কক্ষে। অস্ত্রোপচার শেষে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান ইরতিজার বাম চোখের পরিবর্তে অস্ত্রোপচার হয়েছে ডান চোখে। পরে চিকিৎসককে জানালে তিনি শিশুটিকে আবার ওটিতে নিয়ে যান, এরপর বাম চোখে অপারেশন করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির স্বজনরা। তবে বিষয়টি জানাজানির পর গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক। ভুক্তভোগী মা জানান, এ ঘটনা ঘটিয়ে চিকিৎসক রোগীকে ছাড়পত্র না দিয়ে পালিয়ে গেছেন। ওই চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করা হোক, তিনি যেন এভাবে আর কারো জীবন নষ্ট করতে না পারেন। এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী যখনই অভিযোগ দেবেন, তখনই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা যেই অপরাধ হোক না কেন ছাড় দেব না।’