
গাজা ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের গঠিত একটি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি একটি বৃহত্তর কাঠামো—‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীনে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
এএফপি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর দপ্তর। শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই ‘বোর্ড অব পিস’-এর অধীন ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির বর্তমান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ওই উপদেষ্টা বোর্ডে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদিসহ একাধিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে নেতানিয়াহু তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েল কেন এই বোর্ডের বিরোধিতা করছে—তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া না হলেও, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তুরস্কের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটেছে। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের যেকোনো ভূমিকার বিরুদ্ধেই বরাবর কঠোর অবস্থানে রয়েছে তেল আবিব।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উপদেষ্টা বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে মূল ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জোট নেতাদের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা।
লিকুদের পাশাপাশি জোট সরকারে রয়েছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নেতৃত্বাধীন ‘রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি’ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ‘ওতজমা ইহুদিত’ (জুইশ পাওয়ার)। এসব কট্টরপন্থী দল গাজা পুনর্গঠনে বাইরের দেশগুলোর হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় তিনটি কাঠামো কাজ করবে— ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’, গাজা শাসনের জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি এবং পরামর্শক সংস্থা হিসেবে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’। এরই মধ্যে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি শনিবার কায়রোতে তাদের প্রথম বৈঠক করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা এখন দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে। অস্ত্রবিরতি কার্যকরের পর এই পর্যায়ে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমন কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রতি নেতানিয়াহুর জোট সরকারের আস্থা কতটা থাকবে—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ