
গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার শর্ত হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অন্তত ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন) অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি খসড়া সনদে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রস্তাবিত সংস্থার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ট্রাম্প নিজেই, এবং সংস্থার তহবিল ও সদস্যপদের ওপর তার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের সাধারণ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন বছর। তবে যেসব দেশ প্রথম বছরের মধ্যে নগদ ১০০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করবে, তারা স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করবে। বোর্ডের ভোটাভুটি, এজেন্ডা নির্ধারণ এবং সদস্যপদ বাতিল করার ক্ষমতা এককভাবে চেয়ারম্যানের হাতে থাকবে। এমনকি নিজের উত্তরসূরিও চেয়ারম্যান নিজে মনোনীত করতে পারবেন। সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত জাতিসংঘের বিকল্প বা সমান্তরাল সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা, যেখানে দাপ্তরিক সিদ্ধান্তের পুরো ক্ষমতা চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।
আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলেই এবং কানাডার মার্ক কার্নিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতাকে বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইউরোপের অনেক দেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে তহবিলের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে অনেক দেশ একে অগ্রহণযোগ্য মনে করছে এবং সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যেই একটি প্রাথমিক নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেছে, যারা মূল বোর্ড গঠনের আগে কার্যক্রম শুরু করবে। এতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
সনদে বোর্ডকে ‘দ্বন্দ্বকবলিত এলাকায় স্থিতিশীলতা রক্ষা ও নির্ভরযোগ্য শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এর একক আধিপত্য ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ